গোলটা হলে সেরা গোলের একটি হিসেবে মনে রাখতাম : ঋতুপর্ণা

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ৪ মার্চ, ২০২৬ at ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে লড়াই করে হারলেও ঋতুপর্ণাআফঈদারা বাহবা পেলেন দর্শকদের। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে প্রথমবার নারী এশিয়ান কাপে এবং চীনের বিপক্ষে খেলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেন কেউ কেউ। কেউবা গোল না পাওয়ার আক্ষেপের কথা বললেন। কেউ প্রকাশ করলেন লালসবুজের জার্সি প্রথমবার গায়ে জড়িয়ে খেলতে নামার অনির্বচনীয় অনুভূতি। সিডনির কমব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২০ হেরেছে বাংলাদেশ। দুটি গোলই তারা হজম করেছে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। চতুর্দশ মিনিটে গোল পেতে পারত বাংলাদেশ, কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমার প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দারুণ শট অনেকটা লাফিয়ে আটকে দেন চীনের গোলকিপার। সেটি নিয়ে আক্ষেপ ঝরল ঋতুপর্ণার কণ্ঠে। মাঠে সমর্থন যোগাতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি। ‘ওটা আসলে গোল হলে আমার জীবনের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে মনে রাখতাম। তবে, সব মিলিয়ে আমরা আসলে ভাগ্যবান যে চীনের সাথে খেলতে পেরেছি। তারা ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বকাপে খেলার মতো অভিজ্ঞতা আছে তাদের। এমন শক্তিশালী দলের সাথে খেলতে পেরে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সব মিলিয়ে ভালো লাগছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে একটা লক্ষ্য নিয়েই এসেছি যে, প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে, যে যার পজিশনে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব এবং আজ আমরা আমাদের সেরাটাই দিয়েছি। অবশ্যই এই ম্যাচ আমাদের আগামী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। সিডনির দর্শকদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি চাই, তারা আমাদের এভাবেই সমর্থন দিবেন। তাদের সমর্থন পেলে আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও ভালো ফল উপহার দিতে পারব।’ ফল নিয়ে খুশি অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে হজম করা দুই গোলের মধ্যে দ্বিতীয়টি নিয়ে হতাশা আছে তার। তবে এই ম্যাচের শিক্ষা উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কাজে লাগাতে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক। ‘আক্ষেপ শুধু আমার একটাতেই, দ্বিতীয় গোলটা নিয়ে। যেহেতু আমার পাশ দিয়েই গোল হয়েছিল, আমি যদি একটু ঠেকাইতে পারতাম তাহলে আমার এই আক্ষেপ থাকতো না। ঋতুর শটটা সেরা শট ছিল। ওদের গোলকিপার তো অনেক লম্বা, এটা ওদের জন্য সুবিধা। তো আমরা ভালো খেলছি, সবাই ভালো খেলেছি।’ ‘যেহেতু আমরা চীনের সাথে লড়াই করেছি, শেষ পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়িনি, এই খেলাটা ধরে রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। অবশ্যই শক্তি যোগাবে পরের ম্যাচগুলোর জন্য। চীন গতবারের চ্যাম্পিয়ন, ভীতি তো একটু ছিলই, ওদের সাথে কিভাবে খেলব, কিভাবে লড়াই করব। যেহেতু ওদের সাথে লড়াই করতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের সাথেও লড়াই করতে পারব।’ আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর অনভূতি জুড়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার উচ্ছ্বাসই বেশি। লালসবুজের জার্সিতে আনিকার অভিষেক ৮৬তম মিনিটে, শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি হিসেবে। অল্প সময়ে খুব বেশি ঝলক দেখাতে না পারলেও সুইডেন প্রবাসী এই মিডফিল্ডার খুশি। ‘বাংলাদেশের হয়ে প্রথম খেললাম। খুব ভালো লাগছে। বাবামা, পরিবারের সবাই খুব খুশি। আশা করি, এই টুর্নামেন্টে সামনে আমরা আরও ভালো খেলব।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধচীনের বিপক্ষে অভিষেকে বর্ণিল গোলরক্ষক মিলি
পরবর্তী নিবন্ধশুটিংয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ অথৈয়ের