গোঁয়াছি বাগানে নতুন প্রস্তাবনার স্থান দেখলেন চীনের দুই প্রকৌশলী

বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১২ জুন, ২০২২ at ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতালের জন্য নতুন প্রস্তাবনার জায়গা দেখে গেলেন চীনের দুই প্রকৌশলী। গতকাল সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এসে গোঁয়াছি বাগানে প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান, চমেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রাজিব পালিত, গণপূর্ত বিভাগের (ইমারত) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহেদুন নবী চৌধুরীসহ অন্যরা সাথে ছিলেন। হাসপাতালের আওতাভুক্ত চট্টেশ্বরী সড়কের পার্শ্ববর্তী গোঁয়াছি বাগান এলাকা এবং চট্টেশ্বরী সড়কের প্রধান ছাত্রাবাসের উত্তর পাশে খালি জায়গা ঘুরে দেখানো হয় তাদের। পরিদর্শনকালীন প্রস্তাবিত জায়গার ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করেন দুই প্রকৌশলী।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান আজাদীকে বলেন, চীনের দুই প্রকৌশলী এসে জায়গা দেখে গেলেন। আমরা তাদের বিস্তারিত ব্রিফ করেছি। এই দুজনের পরিদর্শন একেবারেই প্রাথমিক ধাপে বলা যায়। তারা গিয়ে চীন দূতাবাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। পরবর্তীতে চীন সরকারের মূল একটি টিম আসতে পারে।

একই কথা জানান সারা দেশে বার্ন চিকিৎসা সমপ্রসারণে সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি শুক্রবার আজাদীকে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে চাইনিজ টিমের দুজন প্রকৌশলী প্রস্তাবিত জায়গা দেখতে যাচ্ছেন। পরে চাইনিজ মূল টিম যেতে পারে। তখন হয়তো আমিও সাথে থাকব।

প্রসঙ্গত, বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল স্থাপনে সমপ্রতি নতুন চারটি সাইট নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা পাঠায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব সাইটের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের আওতাভুক্ত চট্টেশ্বরী সড়কের পার্শ্ববর্তী গোঁয়াছি বাগান এলাকা, চট্টেশ্বরী সড়কের প্রধান ছাত্রাবাসের উত্তর পাশে খালি জায়গা, হাসপাতালের পিছন দিকে অঙিজেন প্ল্যান্ট সংলগ্ন খালি জায়গা ও হাসপাতালের এনসিলিয়ারি ভবনের পশ্চিম পাশের (ডা. মিজান হোস্টেলের উত্তর দিকে) খালি জায়গা। তবে প্রথম দুটি সাইট (গোঁয়াছি বাগান ও প্রধান ছাত্রাবাসের পার্শ্ববর্তী) হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল সংলগ্ন দুটি সাইটে জায়গার পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শেষের দুটি প্রস্তাবনা (হাসপাতাল কম্পাউন্ডে) আপাতত ভাবনা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। গোঁয়াছি বাগান টার্গেট রেখে এ প্রস্তাবনা এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের। এর প্রেক্ষিতে চীনা টিমের দুই প্রকৌশলীকে গোঁয়াছি বাগানে প্রস্তাবিত জায়গা ঘুরে দেখানো হয়েছে গতকাল। এর আগে গত ৬ জুন ডা. সামন্ত লাল সেনও নতুন করে প্রস্তাবিত এই জায়গা পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, চমেক হাসপাতালে বাতিল হওয়া ১শ শয্যার বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট স্থাপন প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা আগের জায়গাতেই (হাসপাতালের পিছনের অংশে) বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল স্থাপনে পুনরায় প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। তবে একই জায়গাতে দেয়া সেই প্রস্তাবনাও বাতিল করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবনা বাতিলের বিষয়টি অবহিত করে প্রকল্পটির জন্য অন্যত্র জায়গা নির্ধারণে ফের নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত চিঠি চমেক হাসপাতাল পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. আফরিনা মাহমুদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বিকল্প সাইট (ভূমি) নির্ধারণপূর্বক পুনরায় প্রস্তাব প্রেরণের জন্য বলা হয়। চিঠি পাওয়ার পরপরই (২৮ এপ্রিল) বিকল্প সাইট (ভূমি) নির্ধারণসহ নতুন প্রস্তাবনা প্রস্তুতে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. অং সুই প্রু মারমাকে আহ্বায়ক এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমদকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রাজিব পালিত, গণপূর্ত বিভাগের (ইমারত) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহেদুন নবী চৌধুরী, হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (জেনারেল) ডা. মঈন উদ্দিন মাহমুদ ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামকে কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়। প্রস্তাবিত বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে চারটি বিকল্প সাইট নির্ধারণ করে এ কমিটি। কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত চারটি সাইটের প্রস্তাবনা চূড়ান্তের পর সেটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআব্দুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর
পরবর্তী নিবন্ধশেখ হাসিনার কারামুক্তির মাধ্যমে গণতন্ত্রের মুক্তিলাভ হয়েছিল