গৃহকর্তার ভাই গ্রেপ্তার বোন পলাতক, দুইজনকে আসামি করে মামলা

শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

হাসপাতালে পান্না আকতার নামে ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু গৃহকর্মীর বাবা মজিবুর রহমান বাদি হয়ে হালিশহর থানায় এ মামলা করেছেন। মামলায় শিশু পান্না আকতারের গৃহকর্তা হিসেবে মো. নওয়াজ মঞ্জু ও মমতাজ বেগম প্রিয়াংকাকে আসামি করা হয়েছে।

 

সম্পর্কে তারা ভাইবোন। তাদের বাবার নাম নুরুস সাফা। নগরীর হালিশহর বিব্লক আবাসিক এলাকার সালাম ভ্যালী ভবনে তাদের বাসা। আর গ্রামের বাড়ি মীরসরাইয়ের হাইদকান্দিতে। দুই আসামির মধ্যে ভাই মো. নওয়াজ মঞ্জুকে শনিবার (গতকাল) কঙবাজার থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন গতকাল আজাদীকে বলেন, পান্না আকতারের বাবা বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার দুই আসামির মধ্যে ভাই মঞ্জুকে কঙবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বোন প্রিয়াংকা এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পান্না আকতার নামে ১১ বছরের ওই গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে মৃত্যু সনদে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে ওই গৃহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে তাকে ৯নং ওয়ার্ডে ভর্তি দিলেও অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় দুপুর দেড়টার দিকেই শিশু আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাইবোন পরিচয়ে মো. নওয়াজ মঞ্জু ও মমতাজ বেগম প্রিয়াংকা নামে দুইজন শিশু পান্না আকতারকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিশু পান্নাকে তাদের বাসার গৃহকর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় তারা। প্রথমে পান্না নিজে নিজে আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করে। কিন্তু

 

আঘাতের ধরন দেখে চিকিৎসকের জিজ্ঞাসায় এক পর্যায়ে তাকে স্কেল দিয়ে সামান্য মারধর করা হয় বলে স্বীকার করেন দুজন। এছাড়াও ভাইবোন দুজন দাবি করেন, মেয়েটির মাবাবা কেউ নেই। এতিম মেয়েটিকে ছোট থেকে তারাই নিজেদের বাসায় রেখে বড় করছেন। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসলেও পান্না

 

আকতারের মৃত্যুর পর গৃহকর্তা ভাইবোন দুজন উধাও হয়ে যান। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আর খুঁজে পাননি। তাদের প্রদত্ত মোবাইল নম্বর দুটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে দুপুরের দিকে পান্না আকতারের বাবা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি হাসপাতালে ছুটে আসেন।

পরে হালিশহর পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশ বুঝে নেয়। যদিও মরদেহ হাসপাতালের লাশঘরেই রাখা হয়। রাতে পান্না আকতারের পরিবারের সদস্যরা হালিশহর থানায় জড়ো হন। শনিবার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন হালিশহর থানার ওসি মো. জহির উদ্দিন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপর্নোগ্রাফি মামলায় কনস্টেবল কারাগারে
পরবর্তী নিবন্ধতিন হ্যাকারসহ গ্রেপ্তার ৫