এমন অনেক ধর্মীয় উপাসনালয় আছে যারা হয়তো র্যাচেলকে ‘পাপী’ হিসেবে আখ্যা দেবে কিন্তু বোস্টনের সেন্ট সিসিলিয়া রোমান ক্যাথলিক চার্চে র্যাচেল বার্কহার্ট যেন দেবদূতদের কণ্ঠে সুর মেলান। ৭১ বছর বয়সী র্যাচেল পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছুটির দিনে চর্চা করেন আধ্যাত্মিক সঙ্গীত। তার আরো একটি পরিচয় আছে। তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ধর্মকে যেখানে অনেক ট্রান্সজেন্ডার মানুষকে সমাজচ্যুত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে বার্কহার্ট খুঁজে পেয়েছেন–তার বিশ্বাসই বরং তার সমপ্রদায়ে সবার গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার মূল শক্তি। এই বিশ্বাসই সেই ভিত্তিপ্রস্তর, যার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তার গভীরতম বন্ধুত্বগুলো, কঠিন সময়ে খুঁজে পেয়েছেন নৈতিক স্বচ্ছতা এবং বৃহত্তর বোস্টন এলাকায় তৈরি করেছেন অসম্ভব এক আন্তরিক সমাজ।
বার্কহার্টের সঙ্গীত আর তার জীবন যেন একই সুতোয় গাঁথা। তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করতে চান যা নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে তিনি এও ভাবেন, সেই সৃষ্টিকে যা অনন্য করে তোলে তা হলো–হয়তো কোনো একটি ছোট কর্ড বা সুরের নোট। কানে একটু অন্যভাবে বেজে ওঠে এবং সৃষ্টিতে এক ধরনের গভীরতা বা বিষাদ যোগ করে।
গির্জার কোথাও সুরে সাথে
বার্কহার্ট যখন ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৭ বছর বয়সে তার রূপান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তখন তিনি সেন্ট সিসিলিয়া চার্চের সদস্য ছিলেন এবং গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করছেন।
ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিষয়ে ক্যাথলিক চার্চের কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা নেই। তবে পুরুষ ও নারী ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবিতে সৃষ্টি এবং লিঙ্গ অপরিবর্তনীয়–এমন শিক্ষার কারণে দীর্ঘকাল ধরে এই চার্চকে ট্রান্সজেন্ডারদের বিরোধী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। গত বছর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পোপ লিও চতুর্দশ ক্যাথলিকদের সভায় জানিয়েছেন, তার মেয়াদে চার্চের এই মূল অবস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম।
বার্কহার্ট যখন তার যাজককে (প্যাস্টর) নিজের রূপান্তরের কথা জানিয়েছিলেন, তখন তিনি উত্তরে শুধু বলেছিলেন যে–সে যেন নিশ্চিত হয় সে আসলে কী করছে। আর যখন চার্চের অন্য বন্ধুদের তিনি এ কথা জানান, তারা তাকে সমর্থন দেন এবং ঈশ্বরের কথা শোনার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
বার্কহার্টের ২০ বছরের পুরনো বন্ধু মেরি ক্যাসিলো লক্ষ্য করেছেন যে, ২০০০–এর দশকের শুরুর দিকে যৌন নিপীড়ন কেলেঙ্কারির কারণে বোস্টনের অনেক চার্চ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে কিছু চার্চ সেন্ট সিসিলিয়ার সাথে মিলে যাচ্ছিলো। এর মধ্যে বোস্টনের ট্রান্সজেন্ডার অধ্যুষিত এলাকা ‘সাউথ এন্ড’–এর একটি জেসুইট আরবান সেন্টারও ছিল। ফলে সেই সেন্টার থেকে অনেক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি সেন্ট সিসিলিয়াতে যোগ দেন। ক্যাসিলোর মতে, এসবের সত্ত্বেও বার্কহার্ট চার্চের অন্য সদস্যদের কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করার ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন।
আমি জানি, র্যাচেল যখন তার আত্মপরিচয় প্রকাশ করেন, তখন তিনি তার অবস্থান হারানোর ভয়ে ভীষণ আতঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু চার্চের পুরো মিউজিক মিনিস্ট্রি একসুরে বলে উঠেছিল–এটাই তো তুমি, আর তুমি আমাদের এই সমপ্রদায়ের একটি বিশাল অংশ। চার্চের সদস্যরা চেয়েছিলেন র্যাচেল যেন তার নিজের সত্তা নিয়েই বেঁচে থাকেন।
বার্কহার্টের মনে করে, ধর্ম ঠিক এভাবেই কাজ করা উচিত। ঈশ্বর মানে কিছু অযৌক্তিক বা খেয়ালি নিয়মকানুন নয়। বিশ্বাস হলো অন্য মানুষকে তারা যেমন, ঠিক তেমনভাবেই ভালোবাসা।
বার্কহার্ট বলেন, যিশু সবসময় সমাজের প্রান্তিক মানুষদের কাছে যেতেন। আমরা সত্যিই মনে করি, তিনি আমাদের জনগোষ্ঠী, অভিবাসী এবং সেইসব মানুষদের দিকেই তাকাতেন যাদের নানা কুরুচিপূর্ণ নামে ডাকা হয়। তিনি এদের সাথেই সময় কাটাতেন।
আমাদের সুরকার
আর এই মানুষগুলোকেই বার্কহার্ট তার সংগীতের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আপন করে নিতে চেয়েছিলেন। বার্কহার্ট উপাসনার জন্য পবিত্র এবং লিটারজিক্যাল (ধর্মীয় আচার সংক্রান্ত) সংগীত রচনা করেন; অর্কেস্ট্রা এবং গায়কদলের জন্য এমন সব গান লেখেন যা বিশ্বাসের পথে চলা একটি জীবনের আনন্দ, সংগ্রাম এবং কৃতজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে।
২০২২ সালে, বার্কহার্ট এবং কন্ডাক্টর এলিজা ল্যাঙ্গিল মিলে ‘টুট্টি মিউজিক কালেক্টিভ’ গঠন করেন। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যা বার্কহার্টের মতো সুরকার এবং কৃষ্ণাঙ্গ বা সংখ্যালঘু শিল্পীদের শিল্প তুলে ধরার জন্য কাজ করে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি চার্চের সাথে যুক্ত নয়।
এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, বার্কহার্ট এবং ল্যাঙ্গিল সংগীতশিল্পীদের বিন্যাস বা বাছাই করার প্রক্রিয়া থেকে লিঙ্গ পরিচয় শনাক্তকারীর প্রক্রিয়াটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ল্যাঙ্গিল প্রশ্ন করেন, “কেমন হয় যদি আমরা তাদের ওপরই ছেড়ে দেই? আপনি আমাকে বলবেন আপনার কণ্ঠের জন্য কোনটি আরামদায়ক, আর আপনি যেখানে বসে গাইতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন সেখানেই বসবেন।
অন্য সবকিছুর চেয়ে বড় বিষয় হলো ‘টুট্টি’–র সদস্যরা অনেক আনন্দ করেন, কারণ তারা এখানে নিজের আসল সত্তা নিয়ে থাকতে পারেন।
তিনি আরো প্রশ্ন করেন, কেমন হতো যদি আমাদের সংগীতের মান খুব উঁচুতে থাকতো, কিন্তু একই সাথে মানুষকে সাহায্য করতাম এবং তাদের কথাকে বিশ্বাস করতাম? আমরা তাদের এমন জায়গায় রেখেছি যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, আর আমরা শুধু সংগীত সৃষ্টি করছি।
বার্কহার্টের জীবন সম্পর্কেও একই কথা বলা যায়। তিনি নিজের এই পরিবর্তিত জীবনের অনেক বিষয়েই ঈশ্বরের কাছে পথনির্দেশনা চেয়েছেন।
শেষের পূর্বে…
বার্কহার্ট নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। এক সময় তার মা (যিনি বাবার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন) তার খালার সাথে শহরতলিতে একটি বাড়ি কেনেন, সেখানেই বার্কহার্ট ও তার কাজিনরা বড় হন।
বার্কহার্ট মনে মনে একটি আভাস পেতেন যে তিনি হয়তো একজন নারী, কিন্তু সত্তরের দশকে বড় হওয়ার সময় এ নিয়ে কথা বলা মোটেও নিরাপদ ছিল না। তিনি বলেন, সম্ভবত কিশোর বয়সের কোনো এক সময়ে আমার মাথায় এই চিন্তাটি আসে যে আসল বিষয়টা কী। এটি ছিল এক অদ্ভুত অনুভূতি।
আবারও শহরে ফেরার প্রবল ইচ্ছায় বার্কহার্ট বোস্টনের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে ১৯৭২ সালে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতেই বার্কহার্ট সংগীত রচনার ওপর পড়াশোনা শুরু করেন।
সংগীতের প্রতি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে পড়েছি বার্কহার্ট। ষাট ও সত্তরের দশকের প্রগতিশীল রক যুগে বড় হওয়া বার্কহার্ট দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, কীভাবে সংগীতশিল্পীরা ধ্রুপদী এবং জ্যাজ সংগীতের উপাদানগুলোকে একসাথে মিলিয়ে ফেলতেন। লক্ষ্য করেন, তিনি স্বরলিপি পড়ার চেয়ে তাৎক্ষণিক সুর তৈরিতে বেশি দক্ষ। এক বছরের মধ্যেই সংগীত রচনা শুরু করেন। এটি নিজেকে প্রকাশ করার এক নতুন পথ দেখিয়ে দেয়।
বার্কহার্টের মতে, অন্তর্মুখী মানুষ হিসেবে এটি এমন এক কণ্ঠস্বর যা আমি কথা না বলেই ব্যবহার করতে পারি। আর খোদার কসম, মৌখিকভাবে কোনো কিছু প্রকাশ না করতে পারার যে যন্ত্রণা, তা থেকে এটি অসাধারণ এক মুক্তি! ১৯৭৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ হয়, তখনও একজন পুরুষ হিসেবেই জীবনযাপন করছিলেন। এরপর কর্মজীবন শুরু করেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যান, যা পরবর্তীকালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির দিকে নিয়ে যায়।
ভালোবাসার পথ
বার্কহার্ট তার সংগীত রচনা এবং পরিবেশনা অব্যাহত রেখেছিলেন। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরের এক রাত, একটি বড়দিনের কনসার্টে এক বন্ধুর পরিচয় হয়, যা তার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছিল।
রোজ ডেলক্রুজ পেরুর লিমাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কানেকটিকাটের গ্রিনউইচে বড় হন। তার মা এমন একটি পরিবারে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন যাদের একটি পিয়ানো ছিল; আর সেই সুবাদেই রোজ ধ্রুপদী সঙ্গীত শেখার সুযোগ পান। তিনি মূলত সিমনস কলেজে নার্সিং পড়ার জন্য বোস্টনে এসেছিলেন, কিন্তু বিজ্ঞানের ক্লাসগুলো কঠিন মনে হওয়ায় সমাজবিজ্ঞানে চলে যান। সেই রাতে কনসার্টের দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন ডেলক্রুজও, যেখানে বার্কহার্ট তার নিজের লেখা একটি গান পরিবেশন করেন।
ডেলক্রুজ বলেন, তার বাজানো সেই বড়দিনের সুরটি শুনে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কোনোভাবে সেটির একটি রেকর্ডিং জোগাড় করি এবং বারবার শুনতে থাকি। প্রথমে ডেলক্রুজ এবং বার্কহার্ট বন্ধু হিসেবে পথ চলা শুরু করেন। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা, ভ্রমণের নেশা এবং গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস, সবকিছুই তাদের এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছিল।
তারা দুজনেই চার্চে যেতেন এবং একসাথে স্তোত্রসংগীত বা শ্যামসংগীতের (hymnals) সংকলন তৈরি করতেন। ১৯৮৯ সালে তাদের প্রথম পুত্রসন্তান এবং ১৯৯২ সালে দ্বিতীয় পুত্রের জন্ম হয়। পালাবদল করে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন, যাতে একজন দিনের বেলা চার্চে সংগীত পরিবেশন করতে পারলে অন্যজন রাতে করতে পারেন। একই সময়ে, বার্কহার্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। বিভিন্ন পার্ক এবং সাবওয়ে স্টেশন ডিজাইন করেন। তখনও তিনি তার পরিচয়টি সবার সামনে প্রকাশ করেননি।
পারাপার
তাদের দাম্পত্য জীবনের ২৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর, তখন বার্কহার্ট ডেলক্রুজের কাছে তার পরিচয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেন। ডেলক্রুজ জানান, সেই পর্যায়ে এসে আমাদের মাঝে এক ধরনের গভীর সম্পর্ক ও বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গিয়েছিল। চাইলেই সেখান থেকে সহজে বেরিয়ে আসা সম্ভব ছিল না।
তবে বার্কহার্ট যখন তার পরিবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বের সাথে এগোতে থাকেন, তখন ডেলক্রুজের সেই দায়বদ্ধতা এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে। কিন্তু ছেড়ে যাওয়াটা ডেলক্রুজের কাছে কোনো সমাধান মনে হয়নি। তিনি বলেন, একবার যখন আপনি এমন কিছু জেনে ফেলেন, তখন একে অপরের জীবনের বিভিন্ন জট পাকানো দিকগুলোর ক্ষতি না করে আলাদা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আমি মনে করি আমরা দুজনেই পরস্পরকে খুব শ্রদ্ধা করি। বার্কহার্টের ছেলেরাও পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল এবং নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে উৎসাহ দিয়েছিল।
অন্যান্য নারীরা যারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করার পর পরিবার হারিয়েছেন তারা বার্কহার্টকে এই পথে না এগোনোর জন্য সাবধান করেছিলেন। আবার কেউ কেউ তাকে কীভাবে পোশাক পরা উচিত বা নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত, তা নিয়ে কঠোর সব পরামর্শ দিয়েছিলেন। বার্কহার্ট এসবের কোনোটিতেই কান দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি সোজাসুজি বলেন, আমি যদি একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব এমন একটি কাজ করি যা তাকে সবচেয়ে বেশি আত্মমুক্তি দেয়, তবে কি নিজের পছন্দমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, যা নিজের কাছে সঠিক মনে হয়?
গত ৩ মার্চ নিউইয়র্ক সিটির মারকিন হলে তার নিজের রচিত সংগীতের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো–সেই কনসার্টে তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের বন্ধু, পরিবার এবং সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এটি সত্যেরই সাক্ষ্য দেয় যে, ভালোবাসা লিঙ্গ পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। আজকের এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও কিছু মানুষ এমন অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পাচ্ছেন।
নিউইয়র্ক কনসার্ট রিভিউ লিখেছে: “চার্চ মিউজিশিয়ান হিসেবে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থাকায়, পবিত্র সংগীতের (sacred music) প্রতি তার গভীর জ্ঞান পুরো কাজটিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তার সৃষ্টিগুলো ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর ভক্তিপূর্ণ ভাবটি অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে বহন করেছে।”
তিনি বলেন, “সংগীতের প্রতি যখন প্রথম অনুরাগী হয়েছিলাম, তখন যেমনটা লিখেছিলাম–এটি ঠিক তেমন নয়।” কিন্তু বিশ্বাস যেমন তার জীবন এবং পরবর্তীতে তার সংগীতকে অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি তার গানে যুক্ত হওয়া ছোট ছোট বিষাদময় সুরের নোটগুলো (minor notes) যেমন জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে–ঠিক তেমনি তিনি এই অপ্রত্যাশিত জীবনের মাঝেই খুঁজে পেয়েছেন প্রকৃত আনন্দ।
তিনি বলেন, “জানেন তো, আপনি যখন রূপান্তরকামী হন, তখন আপনাকে কেবল একটি পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। আপনার এমন এক পরিচয় থাকতে পারে যা বিভিন্ন উপাদানে ভরপুর এবং যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।”













