গালি দিতে নিষেধ করায় কাঠের বাটাম দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত!

বায়েজিদে সিএনজি চালককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বায়েজিদের মুরাদনগর মির্দ্দাপাড়া এলাকায় সিএনজি চালক খুরশিদ আলমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম সামশুল আলম। গতকাল মুরাদনগরের মির্দ্দাপাড়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি সেখানেই। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা মোহাম্মদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি। গতকাল রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে বায়েজিদ থানাধীন মুরাদনগর ১ নং গলির মির্দ্দাপাড়া এনজি কারিম টাওয়ার সংলগ্ন গোবিন্দ ফার্মেসির সামনে পাকা রাস্তার উপর সিএনজি চালক মো. খুরশিদ আলমকে পিটিয়ে খুনের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার মূল হোতা মোহাম্মদ হোসেন আকস্মিকভাবে খুরশিদ আলমের সাথে তর্কে জড়ায় এবং তাকে গালি দেন। খুরশিদ আলম তাকে গালি দিতে নিষেধ করে বাসার দিকে চলে যাচ্ছিলেন। এসময় মোহাম্মদ হোসেন ও তার সহযোগী মো. সামশুল আলমসহ কয়েকজন তাকে মারধর শুরু করেন এবং সামশুল আলম তার হাত ধরে আটকে রাখেন। একপর্যায়ে মোহাম্মদ হোসেন তার হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে খুরশিদ আলমের মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে খুরশিদ আলম রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়েন। তখনও ঘটনার মূল হোতা ক্ষান্ত হননি। তিনি রাস্তায় পড়ে থাকা খুরশিদ আলমকে পুনরায় একই কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যপুরি আঘাত করতে থাকেন। পুনরায় আঘাতের ফলে খুরশিদ আলমের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে ঘটনায় জড়িতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পুুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনায় জড়িতরা চলে যাওয়ার পর আশেপাশের লোকজন খুরশিদ আলমের নিস্তেজ হয়ে পড়া শরীরের কাছে আসেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খুরশিদ আলমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বায়েজিদ থানা পুলিশ জানায়, খুরশিদ আলমকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী বাচু বাদী হয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে গত বুধবার রাতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে সিএনজি চালক খুরশিদ আলমকে পিটিয়ে খুন করার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়কিছু একটা নিয়ে কয়েকজন লোকের সাথে খুরশিদ আলমের সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন একটি কাঠের বাটাম দিয়ে খুরশিদ আলমকে আঘাত করেন। সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই অবস্থাতেও তাকে বাটাম দিয়ে উপর্যপুরি পেটানো হয়। খুরশিদের শরীর যখন নিস্তেজ হয়ে আসে তখন হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ভিডিওতে আরো দেখা যায়, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর আশেপাশের লোকজন সেখানে এসে ভিড় করেন।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির দৈনিক আজাদীকে বলেন, সিএনজি চালক খুরশিদ আলম খুনের মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে। এরইমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মূল হোতা মোহাম্মদ হোসেনসহ বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, তাদের আমরা পেয়ে যাব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভালো চাকরির লোভে মিয়ানমারের সাইবার অপরাধীদের খপ্পড়ে, উদ্ধার ৮ বাংলাদেশি
পরবর্তী নিবন্ধআমাদের আছে জুলাইয়ে জেগে ওঠা জনগণের সমর্থন : আরিফ