গতি ফেরেনি এডিপি বাস্তবায়নে, ৭ মাসে ২১%

| বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

গতি ফেরেনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে; অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের ২১ শতাংশ অর্থ। এই হার রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্য দিয়ে যাওয়া আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম। কেবল গত অর্থবছর নয়, তার আগের তিন অর্থবছরের জুলাইজানুয়ারি সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল এবারের চেয়ে বেশি। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপির অর্থ ব্যয় হয় বরাদ্দের ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা আগের ২০২৪২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর আগের তিন অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ১১ (২০২৩২৪), ২৮ দশমিক ১৬ (২০২২২৩) ও ৩০ দশমিক ২১ শতাংশ (২০২১২২)। খবর বিডিনিউজের।

বুধবার এডিপি বাস্তবায়নের সবশেষ তথ্য প্রকাশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগআইএমইডি। একক মাস হিসেবে অবশ্য বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে। গেল জানুয়ারি মাসে অর্থ ব্যয় হয় বরাদ্দের ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা তার আগের জানুয়ারিতে ছিল ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জুলাইজানুয়ারিতে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বাস্তবায়নে এ ধীরগতির মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নিল; বুধবার ছিল তাদের প্রথম কার্যদিবস। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে বাড়বে, তা নিয়ে এখনও কোনো পরিকল্পনা মেলেনি সরকারের তরফে। বাস্তবায়নের মন্থর গতির মধ্যে বড় ধরনের কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার, যা মোট বরাদ্দের ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত জুনে তার প্রথম বাজেট দেয়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া উন্নয়ন নীতিতে কাটছাঁট করে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি নির্ধারণ করা হয়। জানুয়ারিতে এসে কাটছাঁটের পর সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়ায় ২ লাখ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় কোপ পড়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বরাদ্দে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমে ৭৩ শতাংশ; আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় কমে ৫৫ শতাংশ। সাধারণত অর্থবছরের প্রথম দিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থছাড় কম হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য বাস্তবায়নের গতি অন্যান্য বারের তুলনায় কম ছিল। তখন আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি, কারফিউ জারি, কমপ্লিট শাটডাউনের মতো ঘটনায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়।

জুলাই আন্দোলনে সরকার পতন হলে আওয়ামী লীগ ঘরানার ঠিকাদাররা অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যে নতুন সরকার এসে বিভিন্ন প্রকল্প খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিলে অর্থবছরের পুরো সময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা যায়।

অর্থ কাটছাঁট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে দাবি করে অনেক প্রকল্প বন্ধও রাখে সরকার। তার প্রভাব পড়ে এডিপিতে; দুই দশকের মধ্যে তলানিতে নামে বাস্তবায়ন হার। ২০২৪২৫ অর্থবছর শেষে সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দের ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। ২০২৩২৪ অর্থবছরে এডিপির অর্থ ব্যয়ের হার ছিল ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

আইএমইডির ওয়েবসাইটে ২০০৪০৫ অর্থবছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য দেওয়া আছে। তাতে বিদায়ী অর্থবছরের মতো কম বাস্তবায়ন হার কোনো বছর দেখা যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনকল ও প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না : শিক্ষামন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধযত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারের ভোট : মন্ত্রী ফখরুল