জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জাতির অধিকার আদায়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়নের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট চেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে রংপুরে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। খবর বাংলানিউজের।
তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের উন্নয়নে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এসময় ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামের ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, এরকম হাজারো মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, সেই ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেমন তাদের জীবন উৎসর্গকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারবো, একইভাবে তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি সে জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে।
সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, একইসঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটি দেবে, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’র, সেখানে ‘হ্যাঁ’ র পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন’, যোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ। জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকতে হবে।
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।
কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী? জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
আবু সাঈদের কবর জিয়ারত : সমাবেশের আগে জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় পীরগঞ্জের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে পৌঁছান তিনি। আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে। কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ রংপুর জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মর মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন। আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আজ দেশের সব মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যই শুধু নয়, আবু সাঈদ শিখিয়েছেন, কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক উঁচিয়ে দাঁড়াতে হয়। কীভাবে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়তে হয়, সেই শিক্ষাও আবু সাঈদ শিখিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, কেবল আবু সাঈদকে মৃত্যু দিবসে স্মরণ এবং তার কবর জিয়ারতের মধ্যে থাকলেই চলবে না, তার আত্মাত্যাগের শিক্ষাটাকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য আমাদের সবাইকে উজ্জীবিত হতে হবে। তাহলেই আমার মনে হয়, আবু সাঈদের আত্মা শান্তি পাবে।
২০২৪ সালর ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আবু সাঈদ। পরদিন তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক।











