গণপূর্তের অনুমোদন, আটকে আছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে

আমবাগান-বায়েজিদ লিংক রোড ৪ কিমি সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প ব্যয় হবে ২ হাজার ২শ কোটি টাকা বাস্তবায়িত হলে নগরে যানজট কমবে

হাসান আকবর | মঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রস্তাবিত নর্থসাউথ১ সংযোগ সড়ক নামে ৮০ ফুট প্রস্থের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২ হাজার ২শ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মানুষের শ্রমঘণ্টা ও বিপুল জ্বালানি সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি বিস্তৃত এলাকায় আবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই রাস্তাটি শহরের বিস্তৃত এলাকার চেহারা পাল্টে দেবে।

সূত্রে জানা যায়, নগরীর ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ও আর নিজাম রোড, সিডিএ অ্যাভিনিউ, জাকির হোসেন রোড, দেওয়ানহাট, টাইগারপাসসহ বিস্তৃত এলাকা প্রতিদিন তীব্র যানজটে স্থবির থাকে। এসব এলাকার যানজটের ধকল সামলাতে হয় সন্নিহিত এলাকাগুলোকে। এই যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সিডিএ ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের মাস্টার প্ল্যানে অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম প্রকল্প হিসেবে রাখা হয় ‘নগরীর আমবাগান থেকে বায়েজিদ লিংক রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’। এই প্রকল্পের আওতায় ফৌজদারহাটবায়েজিদ লিংক রোডের এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির পাশ থেকে পশ্চিম খুলশী মুরগির ফার্ম হয়ে জাকির হোসেন রোড থেকে পাহাড়তলী কলেজের পাশ দিয়ে টাইগারপাসআমবাগান সড়কে যুক্ত হবে। ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৮০ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়কটি নগরীর যান চলাচলে গতি আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। রাস্তাটি নির্মিত হলে অসংখ্য গাড়ি জিইসি মোড়, ষোলশহর দুই নম্বর গেট না গিয়ে আগ্রাবাদ, বন্দর কিংবা পতেঙ্গা পর্যন্ত অনায়াসে চলাচল করতে পারবে।

অপরদিকে শহর থেকে বাইরে যাওয়ার সময়ও শত শত গাড়ি জাকির হোসেন রোড বা ষোলশহর না গিয়ে চলে যেতে পারবে। এখন এই ধরনের সব গাড়িকে জিইসি মোড় কিংবা ষোলশহর দুই নম্বর গেট হয়ে চলাচল করতে হয়। ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে আসা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িমুখী গাড়ি মূল শহর না ঘুরে সহজে গন্তব্যে যেতে পারবে। একইভাবে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি থেকে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কমুখী গাড়িও সমান সুবিধা ভোগ করবে। রাস্তাটি নির্মিত হলে শহরের ভেতরে গাড়ির চাপ অনেকটা কমে যাবে। এতে শহরের অভ্যন্তরীণ যান চলাচলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শহরে আসতে চাওয়া গাড়িগুলোও গতি পাবে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি ঝুলে রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নুরুল করিম প্রকল্পটি নিয়ে মাঠে নামেন। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় যাচাই বাছাই কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মন্ত্রণালয় প্রকল্পটিতে সম্মতি প্রদান করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। গত বেশ কয়েক মাস ধরে প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, সরকার কত শতাংশ দেবে, সিডিএ কত শতাংশ দেবে ইত্যাদিসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সিডিএর পক্ষ থেকে প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকার থেকে চাওয়া হয়েছে। কারণ এই প্রকল্পের খরচ সিডিএ বহন করতে পারবে না। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড়ে সম্মত হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

সিডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এ এ এম হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এখন ৪ লেনের ৮০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করব। তবে ভবিষ্যতে যাতে ১২০ ফুট করা যায় সেজন্য অ্যালাইনমেন্ট দেয়া থাকবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, সড়কটি নির্মিত হলে নগরীর যান চলাচলে গতি আসবে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা মানুষের আত্মসামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগবে। তিনি বলেন, ৮০ ফুট প্রস্থের সড়কটির দৈর্ঘ্য তিন দশমিক আট কিলোমিটার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২শ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত ব্যয়ের দুই তৃতীয়াংশ খরচ হবে ভূমি অধিগ্রহণ এবং বাড়িঘর সরানোর ক্ষতিপূরণে। তিনি জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের পর প্রকল্পটি প্ল্যানিং কমিশনে যাবে। আমরা মন্ত্রণালয়কে সড়কটির গুরুত্ব বুঝিয়েছি। এখন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআরো এক মামলায় কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়রের কারাদণ্ড
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে হত্যা মামলায় ৫ জন গ্রেপ্তার