গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ ফেরাতে হবে : শাহাদাত

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:১২ পূর্বাহ্ণ

অতীত অভিজ্ঞতা থাকায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে। দল পরিচালনা আর দেশ পরিচালনা এক বিষয় নয়। দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীলতা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহি।

গত সোমবার বিকালে নগরের কালামিয়া বাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত ১৪টি ওয়ার্ডের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম৯ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হাশেম বক্কর ও নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।

বিএনপি নেতা আকতার খানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহম্মেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. ইসমাইল বালি, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও নগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দেশে আবারও উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ২০০১ সালের পর থেকে দেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অনাস্থা দূর করতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সীমানা পুনঃনির্ধারণসহ নানা কৌশলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক অপকৌশলের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় আওয়ামী লীগ। তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জনগণের মত প্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

শাহাদাত বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাধিকারই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এই অধিকার ফিরিয়ে না আনলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনআস্থার সংকট আরও গভীর হবে। আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সেখানেও বাতিল হয়। আমি আশা করেছিলাম তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটে ফিরে আসুক। তিনি থাকলে আরো ভালো হতো, প্রতিযোগিতা হতো। তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় আমি খুশি না।

শামসুল আলম বলেন, নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের প্রচার জোরদার করতে হবে। চলমান জনসমর্থনের জোয়ারকে আরও বেগবান করতে হবে। আমি নির্বাচন করলে যেভাবে কাজ করতেন, আবু সুফিয়ানের জন্যও সেভাবে কাজ করতে হবে। আবু সুফিয়ান ভাইকে জয়যুক্ত করতে হবে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেবেন। ধানের শীষের প্রতীক বেছে নেবেন দেশের স্বার্থে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী করা। বিএনপি আগামী নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

নাজিমুর রহমান বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হবে। আমরা চট্টগ্রাম৯ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেক্সি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে, মিলছে না এলপিজি
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা