গণতন্ত্রের পথে নতুন অভিযাত্রায় আজ বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় আজ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। একই সঙ্গে হবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১৯৬৫ ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, এটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপী ব্যালট হবে গণভোটের। যেখানে ‘জুলাই সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে চারটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ভোটাররা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সনাতন পদ্ধতিতে (ব্যালট পেপার) নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো দেশের নজর আজকের ভোটের দিকে। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। উৎসবমুখর আবহের পাশাপাশি ভোটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের ৬৭ লাখের কাছাকাছি ভোটার। এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি এবং জমায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। একইভাবে একটি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের শরিক দল এলডিপির সাথে বিএনপির, একটি আসনে বিএনপির সাথে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এবং একটি আসনে বিএনপির সাথে এনসিপির এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে। যেকোনো অনিয়ম বা সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
চট্টগ্রামের তিনজন রিটার্নিং অফিসার অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য গতকাল সকাল থেকেই ১৯৬৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ১২০০১ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ২৪ হাজার ১ জন পোলিং অফিসারকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া হয়েছে। তারা ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের ৩২ রকমের সরঞ্জাম নিয়ে গতকাল সকালের পর থেকে কঠোর নিরাপত্তায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য আগে থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব এবং আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২০০১টি ভোট কক্ষে ৪০ হাজারের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি তাতে প্রতিটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় শেষ হবে।
নির্বাচনী মাঠে ১১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী : চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল), মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) একেএম আবু ইউছুপ (তারা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী (হাতপাখা)।
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ (একতারা), জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী (কলম), স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার (হরিণ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির (ফুটবল), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান (ট্রাক) ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা)।
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলা উদ্দীন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক একাংশ) আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা), সুপ্রীম পার্টির মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (একতারা), কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদৌলা (কাস্তে), গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম (মাথাল), নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ (বই), ইসলামী আন্দোলনের মো. দিদারুল মাওলা (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ (ট্রাক) ও ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা (মোমবাতি)।
চট্টগ্রাম–৫ (হাটাহাজারী ও চসিক একাংশ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন (আনারস), ইসলামী আন্দোলনের মতি উল্লাহ নূরী (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চেয়ার), স্বতন্ত্র মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল) ও খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন (রিকশা)।
চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. শাহজাহান মঞ্জু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি) ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার (মাথাল)।
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের ডা. এ টি এম রেজাউল করিম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ (লাঙ্গল), ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান (মোমবাতি), ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন (হাতপাখা), আমার বাংলাদেশ পার্টির আব্দুর রহমান (ঈগল), গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দীন (ট্রাক) ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া (কাস্তে)।
চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী ও চসিক একাংশ) আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির এরশাদ উল্লাহ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের (দাঁড়িপাল্লা), এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ (শাপলা কলি), ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল) ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম (হাতপাখা)।
চট্টগ্রাম–৯ (বাকলিয়া–কোতোয়ালী) আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম ফজলুল হক (দাঁড়িপাল্লা), সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির (কাঁচি), ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস শুক্কুর (হাতপাখা), জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী (কলম), গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (মাথাল), নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার (কেটলি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আবদুল মোমেন চৌধুরী (তারা)।
চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী–ডবলমুরিং) আসনে ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শামসুজ্জমান হেলালী (দাঁড়িপাল্লা), সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার (কাঁচি), ইসলামিক ফ্রন্টের মো. লিয়াকত আলী (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন (আপেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী (ফুটবল), জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী (লাঙ্গল) ও লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি (আনারস)।
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শফিউল আলম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আবু তাহের (লাঙ্গল), সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার (কাঁচি), গণফোরামের উজ্জল ভৌমিক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের (চেয়ার), সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. নিজামুল হক আল কাদেরী (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন (ট্রাক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া (সূর্যমুখী ফুল)।
চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), এলডিপির এম. এয়াকুব আলী (ছাতা), ইসলামী আন্দোলনের এসএম বেলাল নূর (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী (লাঙ্গল), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী (আপেল), ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাাইন (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোহাম্মদ এমরান (সিংহ), ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান (মোমবাতি), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল), গণধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ট্রাক)।
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ (ধানের শীষ), ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান (মোমবাতি), এলডিপির ওমর ফারুক (ছাতা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র শফিকুল ইসলাম রাহী (মোটর সাইকেল), মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল), ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ (আপেল)।
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– জামায়াত ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন (ধানের শীষ) ও ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা)।
চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন– জামায়াত ইসলামীর মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পা (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল), ইসলামিক ফ্রন্টের আবদুল মালেক (চেয়ার), মুসলিম লীগের এহছানুল হক (হারিকেন), ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ (হাতপাখা) ও গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল হক (ট্রাক)।
প্রার্থীদের অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ ছাপিয়ে চট্টগ্রামের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রত্যাশার কথা বলছেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারেন এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. জিয়াউদ্দীন আজাদীকে বলেন, এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের পাশাপাশি একাধিক সংস্থার স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে। পাশাপাশি র্যাবের একাধিক টিমও দায়িত্বে রয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে কোনো না কোনো বাহিনী উপস্থিত হয়ে যাবে। এবার বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের মনোবল অটুট আছে; আমরা একটি অবাধ–সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন–এজন্য আমরা সব জায়গায় প্রচারণা চালিয়েছি। কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা বা ভয়ের কিছু নেই। ভোটাররা নির্ভয়ে যাতে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সেই ভাবে আমরা ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছি। আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কোথাও বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই।
নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; সরকারি সেবক হিসেবে আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পুরো জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকতে সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে কাজ করছেন প্রায় ১১৫ জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলার ১৯৬৫টি কেন্দ্রে বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের ফলাফল সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পুরোপুরি না পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্র ত্যাগ করতে পারবেন না। তিনি আরও জানান, এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক প্রত্যেকের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা চাদরে পুরো জেলা : নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনী নিজস্ব নিরাপত্তা অ্যাপ তৈরি করেছে, পুলিশ সদস্যরা বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন এবং বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছেও বডি ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার কোনো নাটক করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকতে সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে কাজ করছেন প্রায় ১১৫ জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলার ১৯৬৫টি কেন্দ্রে বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা : চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২০০১টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণের জন্য ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১৯৬৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি সিএমপির ১৬ থানার অধীনে। অবশিষ্ট ১৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার অধীনে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশি ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে থাকা ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০ টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় কত সদস্য : প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার–ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার–ভিডিপির সংখ্যা ১০জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড থাকবে। এছাড়াও ভোট কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তায় রয়েছে সেনরাবাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র জারি অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে (জেলায়) প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ (অস্ত্রসহ), ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ অঙ্গীভূত আনসার/ সাধারণ আনসার, সহকারী সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার/ সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ।
চট্টগ্রামে ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।












