খেলাধুলায় উন্নতি করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক | রবিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ কিংবা ক্রীড়া সংগঠক, পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারন হচ্ছে সঠিক বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকা বা সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে না পারা। কারন খেলাধুলা এখন কেবলই মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ব নেই। খেলাধুলা এখন পড়ালেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই একজন ক্রীড়াবিদ কিংবা ক্রীড়া সংগঠককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ালেখা করতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এসব কথা বললেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নির্বাহি সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক সিরাজুদ্দিন মো. আলমগীর। চট্টগ্রাম ইয়ুথ স্পোর্টস ফোরাম আয়োজিত অভিজ্ঞতা বর্ননা অনুষ্ঠানে সিরাজুদ্দিন মো. আলমগীর বলেন আমরা মনে করি কেবলই একটি দল নিয়ে মাঠে যাওয়া কিংবা কোচ, ম্যানেজার হওয়ার মধ্যেই একজন ক্রীড়া সংগঠকের সার্থকতা নিহিত। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি তেমন নয়। সম্প্রতি তুরষ্কের কোনিয়াতে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশ দলের চিফ দ্যা মিশনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে গেমসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন এই গেমসে আমি দেখেছি মাঠের বাইরে একজন ক্রীড়াবিদ কিংবা ক্রীড়া সংগঠককে কতটা জ্ঞান রাখতে হয় খেলাধুলা সম্পর্কে। বিশেষ করে বিভিন্ন ইভেন্টের ম্যানেজার, কোচ কিংবা টেকনিক্যাল ডিরেক্টর যারা থাকেন তাদের সংশ্লিষ্ট ইভেন্টের আইন কানুন থেকে শুরু করে সবকিছু নখদর্পনে থাকতে হয়। না হয় প্রতি পদে পদে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দল বাদ পড়তে পারে একটি টুংকু অজুহাতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ কিংবা ক্রীড়া সংগঠকরা সে সব বিসয়ে কখনো মাথা ঘামায়নি। বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গন কেন এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা দায়িত্বশীলের ভুমিকা পালণ করছেন তারা খেলাধুলার বিভিন্ন বিষয়ের উপর পিএইচডি করে তবেই দায়িত্বে আসছেন। বিশেষ করে বড় বড় গেমসে যারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু আমাদের দেশে প্রশিক্ষনের যেমন অভাব রয়েছে তেমনি প্রশিক্ষন নেওয়ার পর তার লদ্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগানোর কোন সুযোগ নেই। ফলে প্রশিক্ষিতরা তার জ্ঞানকে কাজে লাগাতে না পেরে হয়তো দেশ ছেড়ে চলে যান নাহয় অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এখন একটি দলে অনেক মানুষকে সংযুক্ত করতে হয়। যাতে করে একজন ক্রীড়াবিদ কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলবেন, নিজেকে ফিট রাখবেন, তার খাদ্য তালিকা কি হবে, তার দৈনন্দিন কার্য প্রনালী কি হবে সে সব বিষয়ে সম্যক ধারনা দিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে সেদিক থেকে আমরা বেশ পিছিয়ে। আর সে কারনেই আমাদের ক্রীড়াবিদরাও ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে।
তিনি তরুনদের উদ্দেশ্যে বলেন আজকের তরুনদেরকেই এসব বিষয়ে সম্যক জ্ঞান অর্জণ করতে হবে। কারন আগামীতে তারাই নেতৃত্ব দেবে। কাজেই তরুনদের উদ্দেশ্য হতে হবে আগে একজন তথাকথিত ক্রীড়া সংগঠক না হয়ে একজন দক্ষ এবং জ্ঞানী সংগঠক হওয়া। বিশ্ব ব্যাপি এখন নানা প্রতিষ্টান খেলাধুলার উপর সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন করে থাকে। তারই তরুনরা নিজেরা চাইলে সে সব সেমিনারে অংশ নিয়ে নিজেদের জ্ঞাসকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন যে সব কর্মসুচির আয়োজন করে থাকে সেখানেও যাতে চট্টগ্রামের তরুনরা বেশি সংখ্যক অংশ গ্রহন করতে পারে সে জন্যও তিনি চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি করতে হলে তরুনদের খেলাধুলা সম্যক জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ইয়ুথ স্পোটর্স ফোরামের সংগঠক কল্লোল দাশ, ফয়সাল, জাহিদুল আমিন তারেক, গিয়াস উদ্দিন বাবর, আদিল কবির, দ্বৈপায়ন পাল, আব্দুল্লাহ আল নোমান, রাশেদ রেজা, ধীমান বড়ুয়া, সানি দত্ত, আজিজুল হাকিম মুন্না প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকেএসআরএমের পৃষ্ঠপোষকতায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্ষপূর্তি
পরবর্তী নিবন্ধমেয়র ভারতে যাচ্ছেন আজ, দায়িত্বে আফরোজা জহুর