খাতুনগঞ্জে চিনির দরবৃদ্ধি অব্যাহত

বাজার তদারকি করার দাবি ভোক্তাদের

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরেও চিনির দরবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রমজানের আগে চিনির এমন দরবৃদ্ধি ভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছোট আমদানিকারকরাও চিনি আমদানি করেন। ফলে বড় কোম্পানিগুলো একচেটিয়া ব্যবসা থেকে কিছুটা পিছু হটে। সেই সময় খুচরা বাজারেও চিনির দাম একশত টাকার নিচে নেমে আসে। তবে গত কয়েক মাস ধরে মিল মালিকরা কৃত্রিম সংকট করে সিরিয়াল ধরে চিনির সরবরাহ করার কারণে দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে মিল মালিকদের সেই সিন্ডিকেট যেসব ছোট ব্যবসায়ী চিনি আমদানি করেছেন, তাদের আমদানি মূল্যের চেয়েও কম দামে চিনির বিক্রি করে ছোট আমদানিকারকদের লোকসান দিতে বাধ্য করেন। ফলে পুনরায় লোকসান গোনার আশঙ্কায় ছোট আমদানিকারকরা এখন আর চিনি আমদানি করছেন না।

অপরদিকে ভোক্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার চিনির বাজারে গুটিকয়েক রাঘব বোয়ালকে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন মনে হচ্ছে, সেই পথে আবার যাচ্ছে তারা। চিনির আমদানিমূল্যের সাথে বিক্রয় মূল্যের তদারকি করলে আসল চিত্র বের হয়ে আসবে। তাই প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে।

গতকাল সোমবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মণপ্রতি (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়। বর্তমানে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫১০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজারে আসার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে। যে দরে ডিও বিক্রি হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্য ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যের তুলনায় ডিও বিক্রিও হয় বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, চাহিদা বাড়ার কারণে চিনির দাম বাড়ছে। বাজারে যদি কোনো কোনো পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেটি দাম কিছুটা বাড়ে। চিনির ক্ষেত্রেও সেটি ব্যতিক্রম নয়। চিনির বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট করা হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত চিনি রয়েছে। দামও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

ইমরান হোসেন নামের একজন ভোক্তা জানান, আসলে আমাদের দেশের চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে গুটিকয়েক শিল্পগ্রুপ। তাদের আমদানির মূল্য ও বিক্রয়মূল্য যথাযথভাবে তদারকি করা হয় না। ফলে তারা ক্রেতাদের জিম্মি করে সুবিধা মতো দাম বাড়িয়ে থাকেন। সামনে রমজান আসছে। রমজানে চিনির ব্যবহার দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সেই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এখন থেকে অল্প অল্প করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানো শুরু করে দিয়েছেন। তাই প্রশাসনকে এখন থেকে বাজার তদারকি করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজামায়াতকে ভোট দিলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে : ফখরুল
পরবর্তী নিবন্ধনির্বাচনি এলাকায় ৪ দিন বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা