খাতুনগঞ্জে আবারও অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার

এক সপ্তাহে পাম-সয়াবিনের দাম মণে বেড়েছে ১৫০ টাকা

জাহেদুল কবির | বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরেও খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাম তেল এবং সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে ভোজ্যতেলের বাজারে দাম বাড়ছে। এখানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। তবে ভোক্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছে মতো দাম নির্ধারণ করে ভোজ্যতেল বিক্রি করে আসছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি এখন বেড়েও থাকে, তারপরেও এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কথা না। কারণ এখন যেসব তেল বাজারে আছে, সেগুলো আগে আমদানি করা। আসল কথা হচ্ছে, ভোজ্যতেলের বাজারে প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় দাম উঠানামা করান।

গতকাল খাতুনগঞ্জের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৭৫০ টাকায়। সেই তেল মণে ১৫০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯০০ টাকায়। এছাড়া অন্যদিকে বর্তমানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৭ হাজার টাকায়। গত দুই সপ্তাহ আগে এই তেল বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। তেল কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।

খাতুনগঞ্জের ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার এখনো গুটিকয়েক শিল্প গ্রুপের কাছে জিম্মি। তারা ইচ্ছে মতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এর সিন্ডিকেট করে দাম উঠানামা করে। এখানে ছোট ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না।

ইলিয়াছ উদ্দিন নামের একজন ভোক্তা জানান, খাতুনগঞ্জে মূলত ডিও প্রথার কারণে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উঠানামা করে। এই ব্যবস্থায় একজন ক্রেতা শুধু একটি কাগজ কেনেন। যেখানে কেবল পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে। এতেও বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। তাই সরকাররকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। তবে দাম কখনো অস্থির হবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঋণখেলাপি, ডাকাত, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে : অলি
পরবর্তী নিবন্ধদুই শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদানে বাধা, এডহক কমিটির সভাপতিকে বাদ