খাগড়াছড়ি-বান্দরবান সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলি

খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধি  | রবিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৩ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শোভাযাত্রা ও জলকেলি (রিআকাজা) উৎসবের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উদযাপিত হচ্ছে মারমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই। মারমাদের নতুন বছর মাহা সাংগ্রাই ১৩৮৫ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এই বর্ণিল উৎসবের। খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, গত শুক্রবার সকালে মারমা উন্নয়ন সংসদ মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মারমা সমপ্রদায়ের এ উৎসব শুরু হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এদিন মারমা তরুণতরুণী, যুবক ও যুবতীরা সামনের দিনগুলোতে অনাবিল সুখ আর শান্তি কামনায় পানি খেলায় অংশ নেয়।

উৎসবের মধ্য দিয়ে শান্তি ও সমপ্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে এমনটা আশা আয়োজকদের। সাংগ্রাই র‌্যালির উদ্বোধনকালে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, সাংগ্রাই উৎসবে আমরা একত্রিত হয়েছি। এই একতা আমরা ধরে রাখতে চাই। মারমাদের সাংগ্রাই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের অঙ্গীকার হবে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। শোভাযাত্রা শেষে জলকেলির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক প্রমুখ। মারমাদের এই উৎসব চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। মারমা ভাষার কবি চিংলামং চৌধুরী বলেন, রিআকাজা বা জলকেলি মারমাদের প্রধান অনুসঙ্গ জলকেলি বা পানি খেলা। আমাদের বিশ্বাস পানি খেলার মাধ্যমে আমাদের পুরাতন বছরের দুঃখ, গ্লানি, ব্যর্থতা মুছে যাবে।

মারমা সাংগ্রাই উৎসব দেখতে আসেন অনেক পর্যটক। উৎসবের বর্ণিল আয়োজন দেখে মুগ্ধ তারাও। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সুবীর ভৌমিক জানান, এমন আয়োজন প্রথমই দেখেছি। খুবই রঙিন উৎসব। আগে এসব উৎসবের কথা মিডিয়াতে শুনেছি তবে এবার প্রথমবার দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে।

বান্দরবান : বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলিতে মেতেছে মারমা তরুণতরুণীরা। গতকাল শনিবার বিকালে বান্দরবানের স্থানীয় রাজারমাঠে আয়োজন করা হয়েছিল জলকেলি বা মৈত্রী পানি বর্ষণ প্রতিযোগিতার। সাংগ্রাই উৎসব আয়োজন কমিটির উদ্যোগে পাহাড়ি মারমা জনগোষ্ঠীর তরুণতরুণীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দলবদ্ধভাবে জলকেলিতে মেতে ওঠে। এছাড়াও পাহাড়ি পল্লীগুলোতে জলকেলির আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়াকে চট্টগ্রামের প্রথম স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে
পরবর্তী নিবন্ধরমজান মাস দান-সদকার উত্তম সময়