খাগড়াছড়িতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শালবন শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ ভোটকেন্দ্র) ঘিরে গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে নাশকতার প্রস্তুতির’ অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে বিএনপির কর্মীরা। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কোনো আলামত না পাওয়ায় পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. লিটন, সহসভাপতি কামরুল ও অফিস সম্পাদক নুরুল হক। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ কায় কিসলু বলেন, রাতে বিএনপির লোকজন জামায়াতের তিন নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগ করা হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। সেখানে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছে পেট্রোল ও নগদ টাকা ছিল বলে অভিযোগ তোলে বিএনপির কর্মীরা। তাদের দাবি, ভোটকেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতেই এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এ ঘটনায় দুই দলের প্রার্থী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী ইয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ঠেকানোর জন্য বিএনপি নিজেরাই নাটক সাজিয়ে আমাদের লোকজনকে পুলিশে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভুঁইয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের লোকজন ভোটকেন্দ্রে নাশকতার চেষ্টা করছিল। আমাদের কর্মীরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। তারা আজ এবং আগামীকালও এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। তিনি প্রশাসনের প্রতি কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে নিরাপত্তা জোরদার
পরবর্তী নিবন্ধমার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য খণ্ডন করলো ঢাকায় চীনা দূতাবাস