ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের ধর্মজ্যোতি চাকমাকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত স্বাক্ষরিত ফলাফলে দেখা যায়, খাগড়াছড়ির ২০৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের ওয়াদুদ ভূইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৩১৫ ভোট। নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ইয়াকুব আলী চৌধুরী তৃতীয় এবং ফুটবল প্রতীকের সমীরণ দেওয়ান চতুর্থ হন।
খাগড়াছড়িতে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সমপ্রদায়ের ভোট প্রার্থীদের বিজয়ের ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক। ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওয়াদুদ ভূইয়া বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি পাহাড়ি ভোটারদের বড় সমর্থন পেয়েছেন। শতভাগ পাহাড়ি ভোটার অধ্যুষিত কেন্দ্রেও ধানের শীষ প্রতীক উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। পানছড়ির কুড়াদিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ ৩৪০ ভোট, জোরমরম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পেয়েছে ৫২৭ ভোট। জেলার দীঘিনালা, লক্ষীছড়ি, মহালছড়ি, রামগড়, মানিকছড়িসহ ৯ উপজেলার পাহাড়ি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে ওয়াদুদ ভূইয়া ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মজ্যোতি চাকমাকে ৮২ হাজার ৫২৭ ভোটে পরাজিত করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, সমপ্রীতি, উন্নয়ন ও সমঅধিকারের বার্তা তুলে ধরেছিলেন। এছাড়া পাহাড়ি–বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর নাগরিক সমাজের সাথে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা করেছিলেন। যা পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে খাগড়াছড়িতে বিএনপির উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় শান্তি ও সমপ্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে ধানের শীষের পক্ষে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষ পৃথকভাবে ওয়াদুদ ভূইয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে মিছিল ও শোভাযাত্রা করেন।
নির্বাচন বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, এই বিজয় পাহাড়ি–বাঙালিসহ সকল মানুষের বিজয়। এতে আমার একার কোনো কৃতিত্ব নেই। এই জেলার সবাই আমাকে নির্বাচিত করেছেন। তাই আগামীতে সকলের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে এই জেলার সার্বিক কাজ করে যেতে চাই। আশাকরি আপনারা আমার পাশে থাকবেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কারো প্রতি কোনো ধরনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা যাবে না। অতীতে আমাদের উপর যতই নির্যাতন নিপীড়ন হোক আমরা কোনো প্রতিশোধ নিব না। একসাথে সমপ্রীতির খাগড়াছড়ির গড়ব।












