খাগড়াছড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিমল ত্রিপুরাকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. আব্দুর রশিদ ও মো. আল আমিন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের ভূয়াছড়ির বাসিন্দা মংশিতু মার্মা (৪০) ও মো. আব্দুল বসিরের (৫৭) পরিবারের মধ্যে রাজশাহী টিলার একটি ভূমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। গত ১৪ই জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিরোধপূর্ণ জায়গায় আগুন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি সংঘটিত হয়।
এসময় বিমল ত্রিপুরা, মিলন চাকমা ও থৈহলা অং গুরুতর আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। অন্যদিকে আব্দুল বাসিরের মাথায়ও গুরুতর আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিমল ত্রিপুরা ও আব্দুল বাসিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় মংশিতু মারমা বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এবং খাদিজা বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি থানায় পাল্টা মামলা করেন। মংশিতু মারমার দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে মো. আব্দুর রশিদ ও মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে খাদিজার দায়েরকৃত মামলায় আসামিরা আদালত আত্মসমর্পণ করে জামিনে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, গত শুক্রবার রাতে ভিকটিম বিমল ত্রিপুরা (৫০) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ জায়গা–সম্পত্তি বিরোধের ফলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো কুচক্রী মহল যাতে বিষয়টিকে পাহাড়ি– বাঙালি ইস্যু তৈরি করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাতে না পারে। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।











