আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ১২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে এদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের নেতাসহ চারজনের মনোনয়নপত্র। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে এক প্রার্থী ঋণ খেলাপি, এক প্রার্থীর সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া, এক প্রার্থী দলীয় মনোনয়নে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট নাম, আসন নম্বর ও ভোটার নম্বর না থাকায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটার যাচাইয়ে সমর্থকদের খুঁজে না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় বলেন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও এই আসনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী আজাদীকে জানান, বৃহস্পতিবার (গতকাল) চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ছিল। এই আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে বাছাইকালে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তারা পুনরায় প্রার্থিতা ফেরত পেতে আপিল করতে পারবেন।
যে কারণে বাতিল হল ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন : রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে ঋণ খেলাপি হিসেবে নাম থাকায় বিএনপি প্রার্থী (দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে মনোনেয়ন নেয়া) এ কে এম আবু তাহের–এর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। এদিকে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীনের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় এবং ১০–বি ফরম না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া তার মনোনয়নপত্রের সাথে ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত যে তালিকা জমা দিয়েছেন–তার মধ্যে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে যাচাইকালে ৫জন সমর্থককে খুঁজে না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নুর উদ্দিনের মনোনয়নপত্রে–দলীয় মনোনয়নে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট নাম, আসন নম্বর ও ভোটার নম্বর না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।
৮ বৈধ প্রার্থীরা হলেন : চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু তাহেরসহ ৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন এই আসনের রিটার্নিং অফিসার। বৈধ অপর প্রার্থীরা হলেন– বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর প্রার্থী দীপা মজুমদার, গণফোরামের প্রার্থী উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ আবু তাহের, বাসদের প্রার্থী নিজামুল হক আল কাদেরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী আজিজ মিয়া। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হাসেন বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম–১১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৮। তার মধ্যে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৩২ জন পুরুষ, ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৩ জন নারী এবং তিনজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল গত ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একই দিনে বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাঙে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।












