খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে পরীক্ষা বর্জন

চবি ল্যাবরেটরি স্কুল

চবি প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন, অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ও মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের একাংশ। গতকাল বুধবার নির্ধারিত পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের একাংশ পরীক্ষা বর্জন করে পরীক্ষার কেন্দ্র ও অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেন। একই সঙ্গে তারা কলেজ মাঠে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এদিন একাদশ প্রথম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।জানা যায়, কলেজের ১১৩ নম্বর কক্ষে ৭ জন নারী শিক্ষার্থী, ১১৪ নম্বর কক্ষে ৯ জন নারী শিক্ষার্থী এবং ১২০ নম্বর কক্ষে ৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে তালা দিলে পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।

কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা মিনা বলেন, আমাদের কলেজে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে তাদেরকে আমরা চিনি না। পূর্বে যারা ছিলেন তারা খুব বন্ধুসুলভ ছিলেন। তারা ১০১২ বছর আমাদেরকে পড়িয়েছেন। তাদেরকে হঠাৎ করে বহিষ্কার করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় আমরা আন্দোলন করছি। একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোজাম্মেল বলেন, প্রশাসন বলছে পূর্বের শিক্ষকেরা অযোগ্য। তারা অযোগ্য হলে ৫ আগস্টের পরে কেন তাদেরকে বাদ দিলেন না। আমরা চাই আমাদের পুরাতন শিক্ষকরা আসুক।

আন্দোলনরত মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ অহি বলেন, দীর্ঘ ১০১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভালো পড়ান না এমন অভিযোগ তোলা হলেও বাস্তবতা হলো, এই শিক্ষকরাই বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এসব শিক্ষককে সরিয়ে স্বজনপ্রীতি এবং দলীকরণের মাধ্যমে নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের পুরাতন শিক্ষকদের ফেরত চাই।

শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলেজ মাঠে অবস্থান করে কর্মসূচি পালন করে। অবস্থান কর্মসূচি শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি তুলে ধরে। তাদের দাবিগুলো হলোসদ্য নিয়োগকৃত অধ্যক্ষকে অপসারণ করতে হবে এবং বিগত ১০ বছর থেকে যারা চাকরি করে আসছে তাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা পূর্বে সেখানে শিক্ষক ছিলেন তারা কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসা শিক্ষক নয়। তারা খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। কোনো যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছিল বলে এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রিটেন, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন এবং ভাইভার মাধ্যমে তারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রিটেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ন্যূনতম যে জিপিএ দরকার তা কর্মরত শিক্ষকদের ছিল না। তথাপি আমরা শুধুমাত্র তাদের জন্য আবেদন যোগ্যতা শিথিল করেছি। তারপরও দেখা গেল রিটেন পরীক্ষায় তারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি। ফলে ভাইবা ও প্রেজেন্টেশন থেকে তারা বাদ পড়ে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে সূর্যমুখী বাগান তছনছ
পরবর্তী নিবন্ধচাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহনে ধস