কয়েকশ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্যের ভাগ্য অনিশ্চিত

৫ দিন ধরে সাগরে ভাসছে দুর্ঘটনা কবলিত কন্টেনার জাহাজ ।। রপ্তানিকারকরা উৎকন্ঠায়

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২০ এপ্রিল, ২০২২ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

কয়েকশ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্যের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে রপ্তানিকারকদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া কন্টেনার জাহাজটি সাগরে ভাসছে। সার্ভে কার্যক্রম শেষে জাহাজটিকে মেরামত করে সমুদ্রে চলাচলের উপযোগী করা হবে।

তবে কবে নাগাদ জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পথে যাত্রা করতে পারবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জাহাজটির মেরামত কাজ সাগরে করা সম্ভব হবে নাকি বন্দরে ফিরিয়ে আনতে হবে তা অনিশ্চিত। সবকিছু মিলে সিঙ্গাপুরে মাদার ভ্যাসেলের কানেকশন মিস করে ফেলা অনেক রপ্তানিকারক এখন উদ্বেগে আছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কন্টেনার নিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী কন্টেনার ভ্যাসেল এমভি হাইয়ান সিটি। পতেঙ্গা থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বাংলাদেশি অয়েল ট্যাংকার এমটি ওরিয়ন এক্সপ্রেসের সাথে জাহাজটির সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কন্টেনার জাহাজ থেকে একটি খালি কন্টেনার সাগরে ছিটকে পড়ে। কন্টেনার সেটিংসও নষ্ট হয়ে যায়। এতে জাহাজটির ভারসাম্যে সমস্যা হয়। ফলে জাহাজটির সাগরে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাহাজটি মেরামতের পাশাপাশি কন্টেনারের ভারসাম্য ঠিক করার পরই কেবল এটি সিঙ্গাপুরের পথে যাত্রা করতে পারবে। কিন্তু গত ৫ দিন ধরে এটি সাগরে ভাসছে।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্সি সূত্র জানিয়েছে, ৭১৮ টিইইউএস পণ্য বোঝাই ও ৩৮৭ টিইইউএস খালিসহ মোট ১১০৫ টিইইউএস কন্টেনার নিয়ে জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পথে যাত্রা করেছিল। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছে মাদার ভ্যাসেল ধরার কথা ছিল। ৭১৮ টিইইউএস কন্টেনারে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা দেশে যাওয়ার কথা। কিন্তু জাহাজটি নির্দিষ্ট সময়ে সিঙ্গাপুরে না পৌঁছায় মাদার ভ্যাসেল মিস করবে। এখন কবে নাগাদ এসব পণ্য গন্তব্যে পৌঁছবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা যায়, দুর্ঘটনা কবলিত অয়েল ট্যাংকার এমটি ওরিয়ন এক্সপ্রেস বন্দরে চলে এসেছে। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চলাচলে সমস্যা হয়নি। কুতুবদিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরে আটকা পড়া কন্টেনার জাহাজ এমভি হাইয়ান সিটিতে বর্তমানে সার্ভে কার্যক্রম চলছে। পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের প্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য সার্ভে চালাচ্ছেন। পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের সার্ভে শেষ হলে ক্লাশের পক্ষ থেকেও সার্ভে করা হবে।

এরপর জাহাজটিতে সালভেজ টিম পাঠিয়ে মেরামতের ব্যাপারটি দেখা হবে। এটিকে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় মেরামত করা যাবে নাকি জেটিতে এনে কন্টেনার নামিয়ে ড্রাফট কমিয়ে কিংবা ডকে নিয়ে মেরামত করতে হবে তা অনিশ্চিত। আগামী সপ্তাহের আগে জাহাজটির ব্যাপারে কিছু বলার সুযোগ নেই।

নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যগুলো মাদার ভ্যাসেল ধরতে না পারলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, ইউরোপ, আমেরিকায় ঠিক সময়ে পণ্য না পৌঁছলে ক্রেতারা তা নিতে চান না। রেট কমাতে বাধ্য করেন।

একাধিক গার্মেন্টস মালিক বলেন, যত তাড়াতাড়ি পণ্যগুলো সিঙ্গাপুরে মাদার ভ্যাসেল ধরার ব্যবস্থা করা যাবে ততই মঙ্গল। কিন্তু এই জাহাজটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এসব কন্টেনার সিঙ্গাপুর পৌঁছানোর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। অথবা এই জাহাজটিকে বন্দরে এনে কন্টেনারগুলো নামিয়ে অন্য জাহাজের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু এটা সময়সাপেক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জাহাজটি কুতুবদিয়ার ওখানে রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে সমঝোতা হওয়ার পর জাহাজটি চলে যাবে। তবে ক্ষয়ক্ষতি কতটুকু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাটার ১৯৯৯ টাকার জুতায় ২২৯৯ টাকার প্রাইজ ট্যাগ
পরবর্তী নিবন্ধকাপ্তাইয়ে অজগর অবমুক্ত