ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত সেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন। ইসরায়েলের জরুরি সংস্থার বরাতে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। আল জাজিরায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, অনেক ভবনসহ স্থাপনা তছনছ হয়ে গেছে।
এদিকে দেশটির জরুরি চিকিৎসা সার্ভিসের মেগান ডেভিড এডম (এমডিএ) জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত, তিনজন মাঝারি আঘাত পেয়েছেন এবং ১৮ জনের মাইনর ইনজুরি বা স্বল্প আঘাত পেয়েছেন। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তেল আবিবে ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার ইরানের চালানো এ হামলার পর দুইশর বেশি বাসিন্দাকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে শহরের তিনটি হোটেলে নেওয়া হয়েছে। তেল আবিব পৌরসভার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ২৭টি মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর হাকিরিয়া এবং একই শহরে অবস্থিত একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেঙে হামলা চালানো হয়েছে। তারা তেল আবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১২১ জন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের রাজধানীতে বিস্ফোরণের একাধিক শব্দ শোনা গেছে। আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর অবস্থান করছে, সেখান থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। আবুধাবিতে দুজন নিহত হন। দুবাইয়ের কৃত্রিম দ্বীপ দ্য পামে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়; সেখানে চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কুয়েতে ১ জন এবং ইরানে ২ জন নিহত হয়েছেন। আমিরাতে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন।
তিন মার্কিন সেনা নিহত : ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসে নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা। গুরুতর আহত হয়েছে আরো ৫ সেনা সদস্য। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, কয়েকজন সদস্য শার্পনেলের আঘাত ও মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় সামান্য আহত হয়েছেন এবং তাদের পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। বড় ধরনের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আমাদের প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমও চলমান। বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। তাই পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিহত সেনাদের পরিচয়সহ অতিরিক্ত তথ্য নিকটাত্মীয়দের অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না।
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে ইরানের হামলা : মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওই হামলায় রণতরীটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। সেটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ও ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলার পর ট্যাঙ্কারগুলোতে আগুন ধরে যায়।
হরমুজ প্রণালিতে আটকা শত শত জাহাজ : হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজ রয়েছে। এসব যান হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওপেন গালফে নোঙর করেছে। চোক পয়েন্টের অন্য পাশে ডজনের বেশি জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শত্রু ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইরান : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল তাদের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের বিপর্যস্ত করবে। বর্তমানে তারা শত্রু ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান : সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আবুধাবির আল–সালাম নৌঘাঁটির একটি ওয়্যারহাউজ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন ছুড়েছে ইরান। মন্ত্রণালয় বলছে, তারা ওই আক্রমণ ঠেকালেও দুটি কন্টেনারে আগুন ধরে যায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে আমিরাত তথ্য দিয়েছিল, শনিবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১৬৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৪১টি ইরানি ড্রোন মোকাবিলা করেছে।












