চীনের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠককে ঘিরে কেলেঙ্কারির মধ্যে মেয়াদ শুরুর পর মাত্র চার মাসের মাথায় পেরুর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে হেরিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির কংগ্রেস। এতে প্রায় এক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটিতে অষ্টমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ঘটনা ঘটল। খবর বিডিনিউজের।
মঙ্গলবার পেরুর কংগ্রেসে হেরির বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব পেশ করার পর ১৩০ সদস্যের আইনসভায় সেটির পক্ষে ৭৫ ও বিপক্ষে ২৪ ভোট পড়ে। প্রত্যাশিত একটি সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে অন্তর্বর্তী এ প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানো হলো।
রয়টার্স জানিয়েছে, অক্টোবরে পেরুর কংগ্রেস তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তেকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একযোগে সমর্থন দিয়েছিল। দেশজুড়ে বাড়তে থাকা অপরাধ নিয়ে ক্ষুব্ধতা ও দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মধ্যে দিনার পেছনে থাকা ডানপন্থি দলগুলো তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে তার পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। দিনার কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট না থাকায় ওই সময়ের কংগ্রেস প্রধান হেরি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারের সারিতে প্রথমে ছিলেন আর এভাবেই তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।
জানুয়ারিতে অভিযোগ ওঠে হেরি গভীর রাতে হুডি ও সানগ্লাস পরে এক চাইনিজ রেস্তোরাঁয়া চীনা ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াংয়ের সঙ্গে অঘোষিত বৈঠক করেছেন। এ ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা যায়, হেরি হুডি পরে ওই রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করছেন। এরপর এ ধরনের বেশ কয়েকটি গোপন বৈঠকের কথা ফাঁস হয়। এ পরিস্থিতিতে হেরির বিরুদ্ধে ওই চীনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে অঘোষিত বৈঠকের কারণে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। ঝিহুয়া ইয়াং তার অনেকগুলো কোম্পানির মধ্যে একটির জন্য রাষ্ট্রীয় ছাড়ও পেয়েছিলেন। পেরুর রাজধানী লিমায় তার বেশ কয়েকটি চীনা পণ্যের দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, দেশটির একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।












