ক্রেতার অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা

বাহারি রং ও ডিজাইনের ঈদপোশাকের সমাহার মার্কেটগুলোতে আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরুর আশা

জাহেদুল কবির | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বেশিরভাগ শপিংমলমার্কেটের ব্যবসায়ীরা এখনো ক্রেতাদের অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। ৯ রমজান শেষেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা সমাগম হচ্ছে না। যদিও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা বাহারি রঙ ও ডিজাইনের বিভিন্ন ক্যাটাগরির পোশাকের বিরাট সংগ্রহশালা গড়ছেন। তবে ইফতারের পর থেকে কিছু কিছু ক্রেতা আসছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন মাসের শেষ। বেশিরভাগ মানুষের হাতে টাকা নেই। এছাড়া চলতি মাসের ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচন ছিল। প্রায় লোক পরিবার নিয়ে ছুটিতে গ্রামে ছিলেন। সেখানে বাড়তি খরচ হয়েছে। তাই আশানুরূপ ক্রেতা আসছেন না। আগামী এক সপ্তাহ পর ক্রেতারা পুরোদমে মার্কেটমুখী হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর টেরিবাজার, রেয়াজুদ্দিন বাজার, নিউ মার্কেট, জহুর হকার্স মার্কেট, ভিআইপি টাওয়ার, আমিন সেন্টার, ইউনেস্কো সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, স্যানমার ওসান সিটি, বালি আর্কেড, মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটি, শপিং কমপ্লেক্স, ফিনলে স্কয়ার, আফমি প্লাজা ও মিমি সুপার মার্কেটে বিভিন্ন কাপড়ের শোরুমের ব্যবসায়ীরা দিনের বেশিরভাগ খোশগল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের কর্মচারীরা নতুন জামা শোরুমে থরে থরে সাজাচ্ছেন। এরমধ্যে ফিনলে স্কয়ারে কেনাকাটা করতে এসেছেন গৃহিণী ফৌজিয়া সুলতানা। তিনি জানান, কিছুদিন পর মার্কেটে ভিড় শুরু হবে। এখন ভিড় নেই তাই একটু দেখেশুনে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারছি। এছাড়া ব্যবসায়ীরা ঈদ কেন্দ্রিক বিভিন্ন নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এসেছেন।

জানা গেছে, প্রতি বছরই ক্রেতা আকর্ষণে নতুন নতুন ডিজাইনের পণ্য নিয়ে হাজির হন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দোকান এবং ফ্যাশন হাউসে শোভা পাচ্ছে ঈদের নতুন জামা। অন্যদিকে ঈদের বাজারে ভিনদেশী পোশাকের দাপটের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশীয় ফ্যাশন হাউস মালিকরা। তারা জানান, আমাদের দেশে প্রতি বছর লাফিয়ে লাফিয়ে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। সারাবছর কষ্ট শিকার করে আমরা ঈদের এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু দেখা যায়, আমাদের গড়া মার্কেটটি ভারতীয় পণ্যের দখলে চলে যাচ্ছে। এমনকি আমাদের শোরুমে অনেক ক্রেতা এসে ভারতপাকিস্তানের কাপড়ের খোঁজ নেন। প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ ভারতীয় পণ্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে দেশের বাজারে প্রবেশ করে। অথচ আমাদের পণ্যের গুণগত মান ভারতপাকিস্তানের পণ্যের চেয়ে অনেক ভালো। তারপরেও আমরা আশা করছি, এ বছর সব বয়সী ক্রেতার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দেশীয় পোশাক।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম। আশা করি শিগগিরই ক্রেতা সমাগম বাড়বে।

জহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ফজলুল আমিন বলেন, জহুর হকার্স এখন কেবল গরীব কিংবা মধ্যবিত্তশ্রেণীর মার্কেট নয়। এখানকার ব্যবসায়ীরা ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দামের পোশাক নিয়ে আসেন। এছাড়া অন্য যেকোনো মার্কেটের চেয়ে কম দামে ভালো পণ্যটি পেয়ে থাকেন বলে এখানে ক্রেতা সমাগমও বেশি হয়। জহুর হকার্স মার্কেটে ইফতারের পর ক্রেতা সমাগম বেশ ভালো হচ্ছে। তবে সেটি আশানুরূপ নয়।

তামাকুমণ্ডি লেইন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের সমিতির অধীনে অনেকগুলো মার্কেট রয়েছে। এখানে কাপড়, কসমেটিকস, জুয়েলারিসহ চামড়াজাত বিভিন্ন পণ্যের সমাহার রয়েছে। তবে এখন ওই অর্থে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়নি। এছাড়া এ বছর পাইকারি বেচাবিক্রিও খুব বেশি ভালো হয়নি। কারণ যে সময় পাইকারি ক্রেতারা আসেন, ওই সময়টাতে নির্বাচন ছিল। মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছিল। নির্বাচন পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। তবে আমরা আশা করি, মার্চের প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে বেচাবিক্রি শুরু হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএনসিপির এক বছর
পরবর্তী নিবন্ধবেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান : ৮০ হাজার আবেদন, পরীক্ষা১৭-১৮ এপ্রিল