ক্রিকেটার জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানির দায়ে বিসিবির আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মঞ্জুরুল ইসলামকে। এছাড়াও তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবি জানিয়েছিল, জাহানারার করা যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্টচারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন কমিটি। ১৮ দিন পর বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভায় নেওয়া হলো শাস্তির সিদ্ধান্ত। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিসিবি।
এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের দায়ের করা অভিযোগ তদন্তের জন্য বিসিবির গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মঞ্জুরুল ইসলামকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আওতাধীন সব ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাকরি এবং/অথবা ক্রিকেট–সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির সুপারিশগুলি বিসিবি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন মনে করলে এই প্রতিবেদনের আলোকে আরও বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জাহানারা নিউজিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জু তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়াও মঞ্জুর বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তুলেছেন এই পেসার। একইরকম অভিযোগ করেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। এছাড়া টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন জাহানারা। এসব নিয়ে নারী বিভাগের সেই সময়ের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরীকে কয়েক দফা জানালেও তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে সাময়িক সমাধান করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই অধিনায়ক। পাশাপাশি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে বিস্তারিত লিখিত জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ৩২ বছর বয়সী এ পেসার। অভিযোগ তোলার দুই দিন পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এর তিন দিন পর কমিটিতে আরও দুজন সদস্য যোগ করা হয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। জাহানারাকে বলা হয়–আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ক্রিকেটার ১৫ দিন সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তখন তাকে বলা হয়, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জানাতে। জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর বিসিবি জানায়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। অবশেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এর ২০ দিন পর এলো শাস্তির ঘোষণা। আরও যাদের বিরুদ্ধে জাহানারার অভিযোগ ছিল, তাদের নিয়ে তাদের সম্পর্কে কোনো কিছু জানায়নি বিসিবি।
জাহানারা বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ৫২ ওয়ানডে ও ৮৩ টি–টোয়েন্টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার তিনিই। সবশেষ তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা গেছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এখন তিনি থিতু হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনিতে ক্লাব ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি কোচিং কোর্স করছেন। মঞ্জু বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ১৭ টেস্ট ও ৩৪ ওয়ানডে। খেলা ছাড়ার পর তিনি নাম লেখান কোচিং। বিসিবির কোচ হিসেবে কাজ করেছেন অনেক দিন। পরে নারী দলের নির্বাচক ও ম্যানেজারের ভূমিকায় ছিলেন। সবশেষ তিনি কোচিং করাচ্ছিলেন চীনে।











