চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি এলইডি বাতি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় যেসব ক্যাবল লাগানো হয়েছে তা ‘অত্যন্ত নিম্নমানের’ বলে সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, স্থাপিত বৈদ্যুতিক তারের বিভিন্ন স্থানে স্পার্ক সৃষ্টি হয় এবং এতে প্রতীয়মান হয় তারের গুণগত মান সঠিক নয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে রাতের বেলা রাস্তার কিছু কিছু অংশে বাতি বন্ধ দেখতে পায়। এছাড়া দিনের বেলায় বাতি জ্বলতে দেখে। এছাড়া বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পোলের সমস্যা চিহ্নিত করে কমিটি।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এলইডি বাতি স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর তা তদন্তের সিদ্ধান্ত দেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। গত ২৭ ফেব্রয়ারি চসিকের সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত দেন তিনি। এরপ্রেক্ষিতে ১৪ মার্চ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলামকে। এছাড়া সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিনকে সদস্য করা হয়। সম্প্রতি কমিটি প্রতিবেদন জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। ওখানে যে সব সুপারিশ করা হয়েছে সে আলোকে ব্যবস্থা নিব।
প্রসঙ্গত, দৈনিক আজাদীতে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এলইডি বাতি প্রকল্পে অনিয়ম এর তথ্য তুলে ধরা হয়। এরপর টনক নড়ে চসিকের। সিদ্ধান্ত হয় তদন্ত করার।
এদিকে তদন্ত কমিটি তিনটি বিষয় সামনে রেখে অনুসন্ধান করে। এগুলো হচ্ছে– এলইডি বাতির পুল, বৈদ্যুতিক পোল, ক্যাবলের গুনগত মান সঠিক কীনা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসত্য তথ্য দিয়ে কাজ হাতিয়ে নেয়া। কমিটি চুয়েট কর্তৃক গুণগত মানের পরীক্ষাও করে। এতে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থাপিত ক্যাবলের মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। বৈদ্যুতিক পোলের জন্য যে মানের বেইজ (সিসি) টেন্ডার ডকুমেন্ট এর স্পেসিফিকিশনে ধরা হয়েছে তা বাস্তবে বসানো পোলের ক্ষেত্রে যুৎসই নয়। এটা আরসিসি হওয়া বাঞ্চনীয় ছিল।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে স্টেশন রোড, কদমতলী রোড, পলোগ্রাউন্ড রোড, আম বাগান রোড, উত্তর খুলশী, সুগন্ধা আবাসিক এলাকাসহ অন্যান্য স্থান পরিদর্শন করে। সেখানে যে সমস্ত জিআই পোল বসানো হয়েছে তার কিছু ফাউন্ডেশনে ফাটল ও পোল হেলানো রয়েছে। স্পেসিফিকিশনে যে বেইজ ধরা হয়েছে সে বেইজ এর পোল রাস্তায় সমীচীন হয়নি বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চকবাজার অলিখাঁ মসজিদের সাথে স্থাপিত পুলের উপরের অংশ বাঁকা হয়ে যায়। টাইগারপাসে আমবাগান সড়কে স্থাপিত পুলের গোড়ায় ফাটল এবং কয়েকটি ঢালাই ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে। সুগন্ধা আবসিক এলাকায় স্থাপিত অধিকাংশ পোলে জং ধরেছে। স্থাপনের এক বছর না হতেই এসব পোলে জং ধরেছে। এছাড়া ফলমণ্ডীর পাশে একটি পোলের বাইরের অংশে জোড়া ছিল। অথচ জিআই পোলে কোনো জোড়া থাকে না।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে নগরের ৭৫ কিলোমিটার সড়কে এলইডি বাতি স্থাপনে চারটি প্যাকেজে ৪১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় এইচ টি এম এস লি. নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের ১৪ মে কার্যাদেশ দেয়া হয়। একই বছরের ৯ জুন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতাভুক্ত সড়ক আছে ৩০টি। এগুলো হচ্ছে– ভাটিয়ারী লিংক রোড, চানমারী রোড, চট্টগ্রাম কলেজ রোড, ঢাকা ট্রাংক রোড, কালুরঘাট রোড, জাকির হোসেন সড়ক, পোর্ট কানেকটিং রোড, সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ রোড, নাসিরাবাদ ইন্ডাস্ট্রিজ রোড, পুরাতন স্টেশন থেকে কদমতলী, আনন্দবাজার রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, মাঝিরঘাট রোড, আইস ফ্যাক্টরি রোড, অঙিজেন কুয়াইশ কানেকটিং রোডের মিড আইল্যান্ড, আমবাগান সড়ক, পাঠানটুলী রোড, হালিশহর রোড, শৈলবালা স্কুল রোড, ডুলুনিয়া ডেলা রোড (কেবি দাস রোড), পলিটেকনিক রোড, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, খুলশী আবাসিক এলাকা, পুলিশ লাইন আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, লেকভ্যালি আবাসিক এলাকা, জাকির হোসেন সড়ক পার্ট–২ এবং নুরুজ্জামান নাজির রোড।












