সর্বশেষ ১৪৫০ টাকা দিয়ে ১২ কেজির গ্যাস কিনেছিলাম। এর কয়েকদিন পরই এলপিজি গ্যাসের সঙ্কট শুরু হলো। কোনো জায়গায় গ্যাস নাই। গণমাধ্যমে রিপোর্ট হলো বেশুমার। মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের কথা উঠে আসলো। কারো কারো ঘরে চুলা জ্বললো না কয়েক বেলা। আহার যোগানোই রীতিমতো যুদ্ধের ব্যাপার হয়ে গেল। দু চারদিন পর দোকানে দোকানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেল। দাম একেক দোকানে একেকরকম। কোথাও ১৮০০ তো, আরেক দোকানে দুই হাজার প্লাস। নতুন করে চালান যে এসেছে বিষয়টা তাও নয়। রাতারাতি বেড়ে গেল দাম। মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটার মহোৎসব এ জনপদে নতুন নয়। সংঘবদ্ধ এ দুর্বৃত্তায়নের সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। লোভ আর নীতিহীনতাই যেন জিতে যায় সবসময়। কিন্তু অনেকেই চাইলে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন। সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। নানান নীতি নৈতিকতার ফুলঝুরি ফোটে কথায়। আগে যে চালানের গ্যাস ১৪৫০ টাকায় বিক্রি করলেন, ডজন ডজন সিলিন্ডার তো অনেকেরই জমা ছিল। একই দামে কেনা। এই দামে বিক্রি করেই তো ভালো লাভে ছিলেন। তবুও স্রোতে গা ভাসানো! রেখে দিলেন। সুযোগ নিলেন। মানুষকে অসহায়ত্বকে, প্রয়োজনকে জিম্মি করে ব্যবসার নামে দুর্বৃত্তায়ন করলেন। আপনারাই আবার অন্যত্র ঠকলে নীতি নৈতিকতার সাইনবোর্ড হাজির করেন সামনে। বড় গলায় বলেন, থানার পুলিশ খারাপ, হাসপাতালের ডাক্তার খারাপ, পরিবহন সেক্টরের সব খারাপ ইত্যাদি ইত্যাদি। ভালো তো সব সেক্টরেই কমবেশি আছেন। তাদের জেগে ওঠা তো কম দেখা যায়। মানুষকে জিম্মি করে টাকার পাহাড় গড়তে যেন কেউ পিছে থাকতে চান না। টাকা কামাতে সব বিসর্জনের এ দানবীয় কর্মযজ্ঞের অবসান হোক। ব্যবসা হোক কল্যাণের মাধ্যম। মানুষের হাহাকারের অভিশাপ স্পর্শ না করুক।












