ঈদ উৎসবের চিরচেনা আনন্দ মানেই প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে খাওয়া–দাওয়া, ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটার ব্যস্ততা। এসব কাজে ক্যাশ টাকা বহনের ঝুঁকি ও ভাংতির সমস্যা এড়িয়ে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট ও অফার নিয়ে বিকাশ ঈদ উদযাপনকে করেছে আরও সাশ্রয়ী, স্বস্তির ও আনন্দের। শুধু কেনাকাটা বা খাওয়া–দাওয়া নয়, দূর–দূরান্তে থাকা প্রিয়জনকে ঈদ সালামি পাঠানো, বিদেশ থেকে রেমিটেন্স গ্রহণ, এমনকি জাকাত–অনুদান দেয়া– সব লেনদেনই করা যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ–এর মাধ্যমে। ডিজিটাল লেনদেন সহজ ও সুবিধাজনক হওয়ায়, এমএফএস খাত গত বেশ কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করছে। বিশেষত, মানুষ বিভিন্ন উৎসবের সময়, ঈদ–পূজা–পার্বণে, বিশেষ দিনে, ছুটির সময় এবং বছরের শুরু ও শেষে নিজের এবং প্রিয়জনদের জন্য বেশি ব্যয় করে থাকেন। আবার ঈদের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে লেনদেন বড় উল্লম্ফন দেখা যায়, যার অন্যতম কারণ বেতন–বোনাস, রেমিটেন্স, ঈদের কেনাকাটা, রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ভ্রমণ, দান–অনুদান সহ বিভিন্ন কারণে। আর উৎসবকে কেন্দ্র করে বিকাশ নানা ধরনের ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে থাকে, যা ডিজিটাল লেনদেন করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মাঝে অভ্যাসগত পরিবর্তন আনছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একটি সুপারস্টোরে ঈদের গ্রোসারি কিনছিলেন শামসুন নাহার, তিনি বলেন, “ঈদের সময় কত রকমের কেনাকাটা! বাজেট অনুযায়ী সব কেনাকাটা শেষ করা একটু কঠিনই। তবে ডিজিটাল পেমেন্টে কেনা করলে কোথায় কত খরচ হচ্ছে সেই হিসাব রাখাটা একটু সহজ। আবার অনেক যায়গায় ডিসকাউন্ট–ক্যাশব্যাকও পাওয়া যায়। বিকাশ–এর সব চেয়ে বড় সুবিধা হলো– পেমেন্টের পাশাপাশি আরও বহু রকমের লেনদেন করা
যায়।”
উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, “আমার হাজবেন্ড কুয়েত থেকে প্রতি মাসে সরাসরি রেমিটেন্স পাঠান আমার বিকাশ অ্যাকাউন্টে। আর এখন ওই টাকা দিয়েই কেনাকাটা করছি বিভিন্ন দোকানে। কেনাকাটা, বিল দেওয়ার পাশাপাশি এবার জাকাতের যেই টাকাও বিকাশ–এর মাধ্যমে দিলাম একটি দাতব্য সংস্থায়।”
দেখে নেয়া যাক ঈদ উদযাপনে কতটা প্রাসঙ্গিক বিকাশ–
বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা: ঈদের কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্ট যেন শপিংয়ের এক অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। লেনদেনের নিরাপত্তা ও দ্রুততার পাশাপাশি উৎসবকেন্দ্রিক বিভিন্ন ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফারের কারণে গ্রাহকরা নগদ অর্থের বদলে ডিজিটাল পেমেন্টেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটায় একজন গ্রাহকের জন্য বিকাশ পেমেন্টে এবছর রয়েছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ। এই ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে সুপারস্টোর থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডেড শপ, ফ্যাশন হাউস, জুতার দোকান, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, রেস্টুরেন্ট, টিকিটিং প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন খাতে। বর্তমানে সারাদেশে বিকাশ–এর প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট রয়েছে, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যান, এনএফসি ট্যাপ, পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা *২৪৭# ডায়াল করে খুব সহজেই লেনদেন করা সম্ভব।
দান–সদকা ও জাকাত প্রদান: পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে দান–সদকা ও জাকাত প্রদানের চেষ্টা করে থাকেন। সরাসরি অনুদান প্রদানের পাশাপাশি এখন বহু মানুষ নির্ভর করছেন ডিজিটাল আর্থিক সেবার উপর। প্রযুক্তির কল্যাণে দাতার অর্থ দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পৌঁছে যাচ্ছে প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে। আর এই বিস্তারে ভূমিকা রাখছে বিকাশ। বিকাশ অ্যাপ থেকে এখন দেশজুড়ে কাজ করা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আস–সুন্নাহ ফাউন্ডেশনসহ ৫০টিরও বেশি দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে সরাসরি জাকাত ও অনুদান পাঠানো যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও জাকাত ও অনুদান পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
ঈদ সালামির ডিজিটাল রূপান্তর: পরিবারে কনিষ্ঠদের ঈদ উৎসবের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ ঈদ সালামি। আগে কড়কড়ে নতুন নোটে সালামি নেয়ার চল থাকলেও ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে সালামিও হয়ে উঠেছে ডিজিটাল। আর এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বিকাশ, কেননা এখন ঈদ আসলেই শোনা যায়– ‘ঈদের চাঁদ আকাশে, সালামি দিন বিকাশ–এ’। ঈদের আমেজকে সামনে রেখে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে অনেকগুলো বর্ণিল ঈদকার্ড, যা বিকাশে ডিজিটাল সালামিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। শুভেচ্ছাবার্তাসহ রঙিন এই কার্ডগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার সুবিধা ঈদে যোগ করছে বাড়তি মাত্রা।
ডিজিটাল লেনদেন এখন সবার জন্য প্রাসঙ্গিক, দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কেনাকাটা, দান–সদকা, রেমিটেন্স বা সালামি– সব ক্ষেত্রেই বিকাশের বিস্তৃত সেবা ঈদ উদযাপনকে করেছে আরও সাবলীল ও ঝামেলামুক্ত। প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তন শুধু সুবিধাই বাড়াচ্ছে না, বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে করছে আরও উপভোগ্য।












