কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ করছেন সেলাই

খলিফাপট্টিতে দিনরাত মেশিনের খটখট শব্দ দম ফেলার ফুসরত নেই দর্জি শ্রমিকদের

জাহেদুল কবির | বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নগরীর দর্জিপাড়া খ্যাত খলিফাপট্টি এখন দিনরাত মেশিনের খটখট শব্দে মুখর। কাজের ব্যস্ততার কারণে দর্জিদের দম ফেলার ফুসরত নেই। গতকাল দুপুরে নগরীর সিরাজদৌল্লা রোডের সাব এরিয়া বাজার সংলগ্ন খলিফাপট্টি গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

খলিফাপট্টির ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত রমজান শুরুর দুই সপ্তাহ আগে দর্জিদের ব্যস্ততা শুরু হয়। খলিফাপট্টিতে সারা বছর যত কাজ হয় তার ৮০ শতাংশ কাজ হয় ঈদকেন্দ্রিক। এখানের দর্জিরা শার্ট, প্যান্ট, টু পিস, পার্টি ফ্রক, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও স্কার্ট তৈরি করে নগরী এবং নগরীর বাইরের বিভিন্ন মার্কেটে পাইকারিতে বিক্রি করেন। তবে কিছু কিছু কারখানা অগ্রিম অর্ডার নিয়েও কাজ করে বলে জানান কারখানা মালিকেরা। গতকাল সরেজমিনে খলিফাপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, কেউ আবার সেলাই করা কাপড়ে নানা ধরনের পুঁতি ও লেইচ সংযুক্ত করছেন। আমির হোসেন নামের একজন দর্জি জানান, কারখানাতে এখন কাজের প্রচুর চাপ। দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। এদিকে কাজের চাপ থাকায় মালিকরা খুশি।

খলিফাপট্টির ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, খলিফাপট্টিতে মূলত ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসাটা বেশি হয়। এখানে বিভিন্ন দামের ভালো পণ্য পোশাক তৈরি করা হয়। এখন পর্যন্ত আমাদের বেচাবিক্রি খুব বেশি বলা যাবে না। ১০ থেকে ১৫ রমজানের পর থেকে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আমাদের এখানে ভিড় করেন। আবার আমরা অর্ডার নিয়ে পোশাক তৈরি করে দিই। তবে আমরা খুচরা পণ্য বিক্রি করি না।

মো. লিয়াকত আলী রনি নামের অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, মার্কেটগুলোতে এখনও পুরোদমে বেচাবিক্রি শুরু হয়নি। আসলে সাধারণ মানুষ পায়নি। এছাড়া কিছুদিন আগে নির্বাচনের কারণে গ্রামে গিয়েছে অনেকে। সেখানেও খরচ করেছে। এছাড়া রমজান মাসেও বাড়তি খরচ হয়। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। তাই খুচরা বাজারে ভিড় নাই। খুচরা বাজারে ভিড় না থাকার প্রভাবে পাইকারি বাজারও কিছুটা মন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদের আগেই খলিফাপট্টির দর্জিরা বাহারি ডিজাইনের কাপড়ের তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন। খলিফাপট্টির সমবায় মার্কেট, চৌধুরী মার্কেট এবং জামান সাহেবের মার্কেটসহ অনেক ভবনে রয়েছে পোশাক তৈরির কারখানা।

খলিফাপট্টি বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, খলিফাপট্টিতে এখন দিনরাত কাজ চলছে। আমাদের এখন ভারতীয় পোশাকের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমাদের পোশাকের মান ভারতীয় পোশাকের চেয়ে কোনো অংশেই খারাপ না। তবে অনেক ব্যবসায়ী পুুঁজির জন্য দামি দামি পোশাক তৈরি করতে পারছেন না। কারণ এখন ফেব্রিঙ থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়তি। তবে আমরা মানের দিক থেকে কখনো আপস করি না।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের পর আইয়ুব আলী নামের নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক ফেরিওয়ালা নিজের গ্রামের কিছু লোকজন এনে খলিফাপট্টিতে কাপড় তৈরির কাজ শুরু করেন। সেই থেকেই শুরু। বর্তমানে খলিফাপট্টিতে চার শতাধিক কারখানা রয়েছে। পুরনো বেশ কয়েকটি ভবন জুড়ে রয়েছে কারখানাগুলো। প্রায় সবগুলো কারখানার শ্রমিক হচ্ছে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে সিলিন্ডারবাহী ট্রাক উল্টে মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তি
পরবর্তী নিবন্ধখাদ্যাভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তিতে মিলবে মুক্তি