গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, দর্জি, সেলসম্যানদের ব্যবসায়ী দেখিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাই–বোন ও ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাইনুদ্দীন, মুহাম্মদ শোয়াইব ইবনে আলম, উপসহকারী পরিচালক মো. সজীব আহমেদ ও মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ মামলাগুলো দায়ের করেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ আজাদীকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসব মামলার ৬টিতে জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, ৫টিতে আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও একটিতে বোন রোকসানা জামান চৌধুরীর নাম রয়েছে। ইউসিবির সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির সদস্য বশির আহম্মেদের নাম রয়েছে ৬টি মামলায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইউসিবি চকবাজার শাখায় মোহাম্মদ হোছন নামে এক ব্যক্তিকে হোছন ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী, নুরুল আলমকে কর্ণফুলী এম্পোরিয়ামের স্বত্বাধিকারী, মোহাম্মদ জহির উদ্দিনকে জহির ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী এবং ইউসিবির পোর্ট শাখায় মিজানুর রহমানকে ক্যাটস আই কর্পোর স্বত্বাধিকারী এবং ইউসিবির পাহাড়তলী শাখায় শাহজাহানকে শাহ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী, মো. হারূনুর রশিদকে হারুন এন্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এবং ইউসিবি বহদ্দারহাট শাখায় অমিত মল্লিককে মল্লিক এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী দেখিয়ে ঋণের আসল বাবদ মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। এ কাজে গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, দর্জি, সেলসম্যানদের ব্যবহার করা হয়েছে। তাদেরকে ব্যবসায়ী দেখিয়ে তাদের নামে ৭টি চলতি হিসাব খুলে ঋণের নামে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ৭টি হিসাব ছাড়াও একই ধরনের অসংখ্য হিসাব খুলে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি, সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির সদস্য বশির আহম্মেদরা পরস্পর যোগসাজশে তাদের কর্মচারীদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে ঋণের নামে ইউসিবিএলের বিভিন্ন শাখা থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে পাচার করেছেন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদক সূত্র জানায়, দায়ের করা ৭ মামলার তিনটিতে ১৫ জন, ২টিতে ১৪ জন, ১টিতে ১২ জন ও ১টিতে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় যথাক্রমে ৬ কোটি টাকা, ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ৬ কোটি টাকা ও ৫ কোটি ৭৫ লাখসহ প্রায় ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।












