কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

| শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে, রোজার শুরুতেই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। সরবরাহ সংকট না থাকার পরেও প্রতিবছর রোজায় নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য অনেক স্থানে তৈরি করা হয় কৃত্রিম সঙ্কট। খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারী ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের কারসাজিকে। আর প্রশাসন বলছে, বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। অতিরিক্ত লাভের আশায় একটি সিন্ডিকেট ভোলায় সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরী করেছে বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের। তাই বাজারে নেই সয়াবিন তেল। সয়াবিন তেলের পরিবেশক কৃত্রিম সংকটের জন্য দায়ী করছেন কোম্পানিকে। বাড়ছে কাঁচা মরিচ, শসা, গাজর, টমেটোর দাম। হিমশিম খাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মানুষের চিরস্থায়ী দুঃখের নাম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে অস্থিরতা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই কারও। সিন্ডিকেটে বন্দি দ্রব্যমূল্য। বাজারে পণ্যের মজুত থাকলেও বাড়ে দাম। পণ্যের দাম বৃদ্ধির এ ধারা পবিত্র রমজান মাস এলে আরও বেড়ে যায়। পণ্যের মজুত থাকলেও সৃষ্টি করা হয় কৃত্রিম সংকট, বাড়ানো হয় দাম। এতে বিপাকে পড়েন ক্রেতারা। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এ কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে মন্ত্রিসভা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের। তবে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও তা কার্যকরের সম্ভাব্যতা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

এদিকে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রোজার মাসে যে সব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে, অযৌক্তিক কারণে দাম বাড়াবে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি করবে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন চলবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কেউ যেন অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে না পারে। কোনো মজুতদার, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী যেন সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। সে জন্য আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিংয়ে আছে। কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী মজুতদারি করে যদি জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। তিনি গত বুধবার দুপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মূল্য পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে নগরের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়র বাজারের বিভিন্ন আড়ত ও পাইকারি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং চাল, ডাল, চিনি, তেল, ছোলা, খেজুরসহ রমজানকেন্দ্রিক নিত্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি ব্যবসায়ীদের পণ্যের দামের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে রাখার নির্দেশনা দেন। এসময় কয়েকজন ব্যবসায়ী পণ্যমূল্যের তালিকা টাঙিয়ে না রাখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেন। এসময় তিনি বলেন, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ‘আইন লঙ্ঘনের শামিল’। পরে অবশ্য সতর্ক করে কোনো জরিমানা আরোপ করা হয়নি। পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে সংগঠনের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন মেয়র। এসময় রোজার মাসে জনভোগান্তি হ্রাসে পণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন। বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান মেয়র।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজির হোসাইন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে লাগাম টানতে বিগত সরকার আলু, পেঁয়াজ ও ডিমসহ অনেক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। যদিও এসব পণ্যের দাম কার্যকর করা যায়নি। আলু, ডিম, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ নিয়ে কারা কারসাজি করছে তার তথ্য সরকারের জানা। কারও বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। নিত্যপণ্য সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভোক্তাদের সমঅংশগ্রহণ দরকার। নিত্যপণ্যের কারসাজি রোধে বিদ্যমান আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে যথাযথ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে কোনও মহল বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে কঠোর হস্তে দমনের জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে