কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১৯ বছর আগে জায়গা–জমির বিরোধের জেরে এরশাদুল হাবিব রুবেল হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন– জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ফরহাদ, আবু এরশাদ প্রকাশ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকাশ সোহেল। গতকাল চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
এসময় আসামি জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ফরহাদ কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। তাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকী তিনজন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। এদিকে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। তারা হলেন– তৌহিদুল ইসলাম প্রকাশ আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ প্রকাশ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ ও আজহারুল ইসলাম প্রকাশ ছোটন। জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক দৈনিক আজাদীকে বলেন, রুবেল হত্যা মামলায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আদালতসূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে ও গুলি করে রুবেলকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তার মা মমতাজ সুফিয়া শেফালী কুতুবদিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে ১৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন বড়ঘোপ বাজারের একটি স্কুলের ইফতার পার্টি শেষ করে অপর একজনসহ রুবেল রিকশাযোগে বাড়ি যাচ্ছিলেন। কান্দাইল্যা পাড়া মালেকের ঘাটা নামক স্থানে যখন রিকশাটি পৌঁছায় ঠিক তখন আসামিরা রুবেলের উপর আক্রমণ চালায়। রিকশা থেকে তাকে নামিয়ে প্রথমে কিরিচ ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর তার মাথা, কাঁধে ও বুকে বন্দুক দিয়ে গুলি করা হয়। এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রুবেল মাটিতে ঢলে পড়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুবদিয়া হাসপাতালে এবং পরে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আদালতসূত্র জানায়, তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২০১৩ সালের ১ আগস্ট উক্ত চার্জশিটভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন কঙবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। আদালতসূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে রুবেল হত্যা মামলাটি চট্টগ্রামের জেলা জজ আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয়।












