কুতুবদিয়া সংলগ্ন পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে ডুবো অবস্থায় ভেসে এলো মনুষ্যবিহীন একটি ফিশিং ট্রলার। গতকাল রবিবার ভোরের দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের রুমাইপাড়ার পশ্চিমে একটি ডুবা অবস্থায় ট্রলারটি ভেসে এসেছে। মৎস্যজীবী সূত্রে জানা গেছে, এই বোটটি ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে সাগরে সংঘবদ্ধ জলদস্যুরা দুস্যতা চালিয়ে আসছিল। জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, গত এক থেকে দেড় মাস ধরে প্রায় ২০–৩০ জনের একটি জলদস্যু দল সাগরে দস্যুতা চালিয়ে আসছিল। তারা এই বোট নিয়ে এক–দেড় মাসে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, বাঁশখালী ও কঙবাজারের বিভিন্ন উপকূলে দুই শতাধিক ফিশিং বোটে ডাকাতি চালিয়ে লুট করা মাছ ও মালামাল এ বোটে করে মহেশখালীর সোনাদিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে আনলোড করতো। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জলদস্যুরা তিন দলে বিভক্ত হয়ে ডাকাতি শুরু করলে এদিন কুতুবদিয়ার এফবি ‘অজুফা আকতার মানু’ ফিশিং বোটে হামলায় দস্যুদের গুলিতে শাহাদাত হোসেন খোকন (১৭) নামে এক জেলে নিহত হয়। এই খবর পেয়ে একাধিক ফিশিং বোট ধাওয়া দিলে জলদস্যুদের তিন দলের মধ্যে পাঁচ জনের একটি দল ‘সি পাওয়ার’–২ নামের একটি মাছ ধরার ফিশিং জাহাজে আশ্রয় নেয়। ফিশিং জাহাজ থেকে ডাকাতদের ফেরত চাইলে তারা কোস্ট গার্ড বা নৌবাহিনীকে হস্তান্তর করবে বলে দস্যুদের ফেরত দেয়নি। ফিশিং বোটের ধাওয়ার সময় একটি দল পালিয়ে গেলেও ভেসে আসা বোটে থাকা জলদস্যুরা বিভিন্ন ফিশিং বোটের মাঝিমাল্লাদের হাতে আটক হয়। আটকদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড–এর কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হলেও কোস্ট গার্ড গ্রহণ না করায়, তাদের চট্টগ্রাম নিয়ে গিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এতে উত্তেজিত জানতার গণধোলাইয়ের ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। আহত তিনজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বোটটি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে জলদস্যদের খুঁজে বের করা হোক।












