দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার পর্যটন শিল্পে নতুন এক মাইলফলক উন্মোচিত হল। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কুতুবদিয়া বাতিঘর সি–বিচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সি–বিচটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ঝাউবাগান ঘেরা বড়ঘোপ সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন রাইডস স্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া বড়ঘোপ ট্যুরিজম পরিবারের আয়োজনে পর্যটকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে খুলে দেয়া হয় এই সি–বিচ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম শহিদ উদ্দিন ছোটন স্থানীয় প্রশাসন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে এই পর্যটন কেন্দ্রের দ্বার উন্মোচন করে দেন।
স্থানীয় পর্যটকরা বলেন, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ সৈকত তার শান্ত প্রকৃতি এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্যের জন্য আগে থেকেই পরিচিত ছিল। তবে আধুনিক সুযোগ–সুবিধা সম্বলিত এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করবে। সৈকতের আকর্ষণ ও আধুনিকায়ন নতুনভাবে সাজানো এই সৈকতে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
বসার সুব্যবস্থা : সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার জন্য সৈকত জুড়ে রাখা হয়েছে আধুনিক ছাতা ও বেঞ্চ। পর্যটকদের সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফ গার্ড দল। রাতে ভ্রমণের জন্য সোলার লাইটের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে আলোকিত করা হয়েছে।
ঝাউবাগান ও পরিবেশ : সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় কয়েক হাজার নতুন ঝাউগাছ রোপণ করা হয়েছে। কুতুবদিয়া দ্বীপ তার বাতিঘর, লবণ চাষ এবং বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিখ্যাত। বড়ঘোপ সৈকতের এই আধুনিকায়ন দ্বীপের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে কক্সবাজারের বিকল্প হিসেবে এই শান্ত ও স্নিগ্ধ সৈকতটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। উদ্বোধন শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৈকতে প্লাস্টিক বর্জন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সকলকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।












