চট্টগ্রাম বন্দর বিক্রি করে আর কাউকে নিজের কপাল বানানোর সুযোগ দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্দরকে বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। জনগণের বন্দর জনগণের হবে। চট্টলাবাসী, এখানে অনেক ব্যাপার আছে। এটাকে গর্বের চট্টলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে। অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছেন, এটা নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, কিন্তু কাজে এটা অন্য কিছু, ফকফকা।
তিনি গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সমাবেশে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের শরীক দলের দায়িত্বশীল নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বক্তব্য শুরু করেন জামায়াতের আমির। ২৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। এতে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহাগরের তিনটি (চট্টগ্রাম ৯, ১০ ও ১১) ও খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও চট্টগ্রাম–৮ আসনের এনসিপি প্রার্থীর হাতে দলটির প্রতীক শাপলাকলি তুলে দিয়ে তাদের জন্য ভোট চান জামায়াতের আমির। বলেন, এখানকার (নগরের) চারটা আসন এবং খাগড়াছড়ির একটা, এই পাঁচটা আসন মেহেরবানী করে চট্টগ্রামবাসী আমাদেরকে উপহার দিন। এছাড়া তিনি সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। আমিরে জামায়াত তার বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে বিএনপি’র বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। সম্প্রতি নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার যে আহবান জানান তার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ঠেলার নাম বাবাজি’। এসময় চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় তার এক্স আইডি হ্যাক করা হয় বলেও দাবি করেন জামায়াতের আমির।
‘উই রিভোল্ট’ বলেছিল কর্নেল অলি : বিএনপিুর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে এগিয়ে নিয়েছিল এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম; এমনটাই দাবি ডা. শফিকুর রহমানের। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শুধুমাত্র বন্দর নগরী নয়, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, এটি এক সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। ৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকেই হয়েছিল। আপনাদেরই এক গর্বিত সন্তান সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন ‘উই রিভোল্ট’, তিনি হচ্ছেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ। জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। চট্টলাবাসী আপনাদেরকে স্যালুট, এই গর্বিত ইতিহাসের আপনারাই সূচনা করেছিলেন।
অলি আহমেদ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, তিনি (অলি আহমেদ) আজকে আক্ষেপ করে বলেন; আমি লড়াই করেছি রণাঙ্গণে, জিয়াউর রহমান সাহেবের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেছিলাম, আমি এখন বিএনপিতে নেই, আমি থাকতে পারি না। কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়, এটা বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়। তিনি (অলি আহমেদ) আরেকটি কথা বলেন, সেটা আমি বলতে চাই না। তার মুখ থেকে আপনারা শুনে নেবেন।
‘রাখ তোর ফ্যমিলি কার্ড’ : বিএনপি’র ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। বলেন, এখন তারা মায়ের গায়ে হাত তুলে। আবার এসে বলে, একটা ফ্যামিলি কার্ড নাও। এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত। রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। আমার মায়ের মর্যাদার কাছে ওই ফ্যামিলি কার্ড নস্যি, এর দুই পয়সার কোনো গুরুত্ব নেই। আগে আমার মায়ের মর্যাদা। তারপর ওই ফ্যামিলি কার্ড।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জাতিকে গর্বিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারো কার্ডের ধার এই জাতি ধারবে না, ইনশাআল্লাহ। যে যুবসমাজ লড়াই করেছিল তাদের দাবি একটাই ছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সমাজের সবক্ষেত্রে আমাদের ন্যায্যটা চাই, জাতির সমস্ত নাগরিকদের ন্যায্যটা চাই। এই ন্যায্য দিতে যারা অস্বীকার করেছিল তাদেরকে খালি হাতে মোকাবেলা করে দেশ থেকে বিদায় করে দিয়েছে। সেই মায়ের সন্তানদেরকে ভয় দেখাইও না। আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছ, আগুন জ্বলে উঠবে, আগুন। এ আগুন কেউ নিভাতে পারবে না। অপবাদ দিয়ে আমাদেরকে ঠেকাতে পারবা না। ভয়ভীতি দেখে আমাদের গতিস্তব্ধ করতে পারবা না। আল্টিমেট মঞ্জিলে না যাওয়া পর্যন্ত ইনশাল্লাহ আমরা থামব না।
তিনি বলেন, আমাদের মঞ্জিল হচ্ছে ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে, আল্লাহর দেওয়া বিধানের ভিত্তিতেই এই বাংলাদেশকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। যুবসমাজ কারো কাছে গিয়ে ভিক্ষা চায় নাই, দাবি জানায়নি আমাদেরকে বেকার ভাতা দাও। তারা বলেছে আমাদের হাতে কাজ দাও। কাজ করতে চাই, দেশ করতে চাই। আমরা কথা দিচ্ছি যুব সমাজ, আমরা ওই বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অসম্মানিত করবো না। তোমাদেরকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তোমাদেরকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। এরপরে বলবো তোমার কাজটা তুমি নাও, আমার দেশটা আমাকে গড়ে দাও।
আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা বাংলাদেশ নামে একটি উড়োজাহাজের ককপিটে ক্যাপ্টেন হিসেবে যুব সমাজকে বসিয়ে দিতে চাই, সেই উড়োজাহাজের প্যাসেঞ্জার সিটে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। অতীতের কাসুন্দি টেনে জাতিকে আর বিভক্তি করতে দেওয়া হবে না। ধর্মেবর্ণে কোনো ভেদাভেদ আমরা চাই না। সকল ধর্মের মানুষ মিলে দেশকে আমরা ফুলের বাগান হিসেবে সাজাতে চাই। সকলের জন্য আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। বিশেষ করে মা বোনদের জন্য, তাদের গৃহে চলাচলে এবং কর্মস্থলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের সকল শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। মায়ের মর্যাদায় মাথার উপরে তাদেরকে তুলে রাখবো। মায়ের মর্যাদা নিব না, জান দিতে প্রস্তুত থাকবো।
এসময় বিএনপি’কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এরা বাংলাদেশকে কি দিবে? ওই ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যে বার্তা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ, ক্ষমতায় আসার আগে একই বার্তা দিয়েছ এই দলটি। সেই দলের নেতাদেরকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা শান্তির পথে, মানুষকে সম্মান দেখানো ও মানুষকে ভালোবাসার পথে আসছেন না। এখন তারা লেগেছে আমাদের পিছনে, আমাদের মা বোনদের পিছনে।
জামায়াতের আমির বলেন, এখানে একজন বোন বলে গেছে তাদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা। তারা মা বোনদের গায়ে হাত দেয়। এরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয় নাই? যদি মায়ের পেট থেকে জন্ম নিয়ে থাকে তাহলে এদেরকে অনুরোধ করব, প্রথম তোমার মাকে সম্মান করো। তুমি যদি তোমার মাকে সম্মান করতে জান, তাহলে গোটা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের সমস্ত মাকে তুমি সম্মান করতে পারবা। আর তোমার যদি সেই পারিবারিক শিক্ষা না থাকে, তাহলে তুমি মানুষ নও। এটি আমার কথা নয়, এটি আল্লাহর কালামের কথা।
তিনি বলেন, সবচেয়ে নির্যাতিত দল জামায়তে ইসলামী ধৈর্য ধরলো। দেশের শান্তি–শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করল, শহীদ পরিবারের কাছে দৌড়ে গিয়ে হাজির হলো, আহত পঙ্গুদের পাশে গিয়ে সান্ত্বনা যোগাল, বন্যা কবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আর সেই জায়গায় একদল চাঁদাবাজিতে ঝাপাইয়া পড়ল। আমি পার্সোনালি তাদের এখানকার শীর্ষ নেতাদেরকে নিয়ে বসে হাতে ধরে বলেছি, দোহায় আল্লাহ’র–আমরা সবাই মজলুম ছিলাম, মেহেরবানি করে এখন জালেম হবেন না, মানুষকে কষ্ট দেবেন না, চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, অমুক–তমুকের সাম্রাজ্যের পাহারাদারি বন্ধ করুন। এখানে ওখানে বিভিন্ন জায়গার দখলদারি শুরু হয়ে গেল, এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল।
লাল কার্ড দেখানোয় তাদের মাথা গরম : জামায়াতের আমির বলেন, সকলেই মজলুম ছিলাম, টানা ১৫ বছর। আমরা আরেকটু বেশি। আমাদের উপর তাণ্ডব শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। লগি–বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে জিরো পয়েন্টে প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ছয়জন ভাইকে খুন করা হয়েছিল। খুনের রাজনীতির এখানেই সূচনা। পিছনের দরজা দিয়ে এসে আওয়ামী লীগ যা করেছে তার সাক্ষী বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। তারা তাদের পাওনা পেয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। আপনারা কি চান বাংলাদেশ পুরাপুরি মুক্তি পাক? আপনারা কি চান একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক? যদি চান তাহলে ফ্যাসিবাদী খাসলতের যারা, তাদেরকে চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
এসময় লাল কার্ড দেখানোয় তাদের মাথা গরম হয়েছে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাঘ মাসে মাথা এত গরম হল কেন, এটা তো চৈত্র মাসে গরম হওয়ার কথা। মাঘ মাসে গরম হয়েছে কি কারণে জানেন? জুলাই যোদ্ধাদেরকে যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল, জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি, সেই তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে জাতিকে একটা বার্তা দিয়েছে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এই তরুণ ছাত্রসমাজ জানিয়ে দিয়েছে, তারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ, স্ট্যান্ড দখলকারী এবং নারীদের ইজ্জত হরণকারীকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এরপরের নির্বাচনগুলো (ছাত্র সংসদ) ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়ে। যেখানেই হচ্ছে সেখানেই দুর্গের পতন। না, জনজোয়ার এভাবে আটকানো যাবে না। তাদের মাথা গরম হয়েছে, কারণ আজকে মায়েরা তাদের ইজ্জতের ওয়ারেন্টি হিসাবে মনে করে, আমরা যারা ১১ দল এখানেই তারা নিরাপদ। একথা তো আমার নয়, আমার মায়েদের।
প্রতিবাদ করায় আইডি হ্যাক : চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় এক্স আইডি হ্যাক করা হয়েছে দাবি করে জামায়াতের আমির বলেন, আমি কেন এর প্রতিবাদ করি, এজন্য আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এত জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বলবেন যে, আপনার এই কলাটা খেয়েছে কে? ঠাকুর ঘরে কে রে। কলা অর্ধেক কামড় দিয়ে বলে, আমি কলা খাই না। আলহামদুলিল্লাহ ইতিমধ্যে আবিষ্কার হয়ে গেছে, কারা করেছে। এখন ওদের পেছনে কোনো কালো হাত সেটাও আমরা আবিষ্কার করব।
জামায়াতের আমির বলেন, দুইদিন আগেও গাজীপুরে একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের কাছে চাঁদা চাইতে গিয়েছিল। চাঁদা দেয় নাই, তাই মেরে ফেলছে। এরা আবার বড় গলায় কথা বলে। এরা যখন একসময় ক্ষমতায় ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঢুকে ওরা কি করেছিল আপনারা সবাই জানেন। এখনো কি করে সব জানেন, আর আমার নামে চালিয়ে দিয়েছে। অসুবিধা নাই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কারো নামে বানোয়াট, কোনো মিথ্যাচার করে, কোনো অপবাদ দেয় আল্লাহ তার মাথার উপরে লানত হিসাবে তাকে ফেরত দেবে।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ সাক্ষী, এই ধরনের নোংরা কথা তো দূরের কথা, এ ধরনের নোংরা চিন্তা আমরা জীবনেও করি নাই। আমাদের মা–বাপ এই শিক্ষা আমাদেরকে দেন নাই।
ভোট চেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের জন্য : ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানকার (নগরের) চারটা এবং খাগড়াছড়ির একটা আসন, এই পাঁচটা আসন মেহেরবানি করে চট্টগ্রামবাসী আমাদেরকে উপহার দিন। আমাদেরকে বলতে জামায়াতে ইসলামীকে না। ১৮ কোটি মানুষকে উপহার দিন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের কন্ঠ। আমরা পুত্র হারানো মায়ের কন্ঠ, পুত্র হারা বাবার কন্ঠ, স্বামী হারা স্ত্রীর কন্ঠ, বাবা হারা এতিম সন্তানের কন্ঠ, আয়না ঘরে বন্দি হওয়া লোকগুলার কন্ঠ। আমাদেরকে মেহেরবানি করে আপনাদের ভোটগুলো দিন। আমরা কথা দিচ্ছি, আমাদের উপর আস্থার প্রতিদান আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমরা দেব।
তিনি বলেন, যেখানে যে প্রতীক যার হাতে আমরা তুলে দিব তার পক্ষেই ঝাঁপিয়ে পড়বেন। এখন থেকে মনে করবেন আমরা সবাই একটা দল। প্রতীক যেটাই হোক দল একটা মনে করে আমাদেরকে লড়তে হবে। এই লড়াই–এ আমরা বিজয়ী হব, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।
জাায়াতের আমির বলেন, আমি আপনাদেরকে সঙ্গে রেখে চট্টলার ময়দানে ঘোষণা দিচ্ছি। আমি জামায়াতে ইসলামের ছোট্ট এক দায়িত্বশীল। কিন্তু আমি জামায়াতে ইসলামের বিজয় চাই না, আমি এদেশে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের যেদিন মুক্তি আসবে সেদিন আমাদের সমস্ত কার্যক্রম সফলতা পাবে। আপনারা এই মুক্তির মিছিলে থাকবেন? আপনারা সমুদ্রপাড়ের মানুষ, আপনারা কি সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস ও ঢেউ ভয় পান? এই ভয়কে যারা জয় করেছে ১২ তারিখও তারা জয় করবে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ দুইটা ভোট। একটা ভোট হচ্ছে জুলাইকে বুকে আঁকড়ে ধরার জন্য হ্যাঁ ভোট। জুলাই আছে তো ২৬ এর ইলেকশন আছে। জুলাই যেখানে নাই, ২৬–এ কোনো নির্বাচন নেই। যারা জুলাই মানে না তাদের জন্য আবার কিসের নির্বাচন? যারা জুলাইকে ঐতিহ্যের সাথে বুকে ধারণ করে ভালোবাসা দিয়ে শ্রদ্ধা দিয়ে, নির্বাচন তাদের জন্য।
তিনি বলেন, ‘ঠেলা খাইলে নাকি বাবাও ঠিক হয়। ঠেলার নাম বাবাজি। প্রথমে আমরা মানি না। এখন দেখছে সারা দেশ ঐক্যজোট, কিসের পক্ষে? হ্যাঁ– এর পক্ষে। এখন আস্তে আস্তে কেউ কেউ বলতে শুরু করেছে, আচ্ছা আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবো। আমরা দোয়া করি, তাদের মুখের কথাটা যেন বুকের কথা হয়। এই ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস তৈরি হবে, হ্যাঁ বিজয়ী হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, হ্যাঁ ভোটের পরের ভোটটা ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য। ১১ টা দলের ১১ টা প্রতীক আছে। আমরা কোনো দলকে আমাদের পেটে হজম করি নাই। এটা একটা দলকে অপমান করার শামিল। আমার সাথে তুমি ঐক্য বেঁধেছো, আমি এখন বলব যে, আসো আমার পেটের ভিতরে ঢুকে যাও। এটা ওই দলটার প্রতি অপমান। আমরা এটা করি নাই। সব দল আমরা নিজের প্রতীকে নির্বাচন করছি।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এই জন্মভূমির প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদারি করা আমাদের দায়িত্ব, এর আধা ইঞ্চি মাটিও ইনশাআল্লাহ আমরা কাউকে দেবো না। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা বলেছিল, ‘জীবন দিব–জুলাই দিব না’, আমরা তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলছি– জীবন দিব–মাটি দেবো না। কোনো আধিপত্যবাদ আর বাংলাদেশে মানা হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। আমাদের যুবসমাজ প্রমাণ করেছে, দেশের যে কোনো মর্যাদা রক্ষার জন্য বুক চিতিয়ে লড়াই করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।
নগর জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মাদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী’র যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়াবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহাজাহান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাত উল্লাহ প্রমুখ।
লোহাগাড়ার জনসভায় বক্তব্য: আমাদের লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, যারা বুক চিতিয়ে সংগ্রামে নেমে, গুলির মুখে দাঁড়িয়ে জীবন ও অঙ্গহানির ঝুঁকি নিয়ে দেশকে রাজপথে নিয়ে এসেছে–এই সাহসী যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি–বেকার ভাতা দিয়ে নয়, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই বলবে আমিই বাংলাদেশ, এটা আমার বাংলাদেশ।
দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বদরুল আলমের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্যে রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবি ক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ, খেলাফত মজলিস দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমান, লেবার পার্টির দক্ষিণ জেলা সভাপতি ড. মজনু মিয়া, রাঙামাটি জেলা আমীর আবদুল আলিম, বান্দরবান জেলা আমীর আবদুস সালামসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সীতাকুণ্ডের জনসভায় বক্তব্য : সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেলে সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর সরকার এসেছে এবং সরকার গেছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সারা দেশসহ বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সীদ্ধান্ত নেবে। আমি বা আমরা, জমায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে চাই না। ক্ষমতায় আসবে ১৮ কোটি মানুষ। আমরা যেন রাষ্ট্রের সবকিছু বণ্টন করে দিতে পারি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আব্দুল জব্বারে সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়েতের অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আমিরুজ্জামান, নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, প্রমুখ।












