কিংবদন্তি ছড়াকার

গৌতম কানুনগো | মঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যে কিংবদন্তি ছড়াকার। তিনি ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারী চট্টগ্রামস্থ রাউজান উপজেলার বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মদিন দিনটিকে ‘জাতীয় ছড়া দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি প্রতি বৎসর জাঁকজমকভাবে এ দিবসটি পালন করে আসছে। বিষয়বৈচিত্র্য, সহজ উপস্থাপনা এবং ছন্দের অপূর্ব সমন্বয় তাঁর ছড়াকে করেছে স্বতন্ত্র। তাঁর ছড়া ও ছন্দের ভেতর এত আলো, এত বিস্ময়, এত গল্প এগুলোই হয়তো তাঁকে ছড়া জাদুকরে পরিণত করেছে। ২য় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়, সীমাহীন দারিদ্রতার কারণে প্রাইমারী স্কুলের গন্ডী তিনি পার হতে পারেননি। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ফলমূল, বুট, বাদাম ইত্যাদি ফেরি করে বিক্রি করেছেন। দরিদ্রতা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। জীবনে এমন কোন কায়িক শ্রম নেই যা তিনি করেননি। সীমাহীন কষ্টের ফলস্বরূপ তিনি হয়ে গেলেন বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ ছড়াকার। স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, যহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার। বাংলা ছড়া সাহিত্যে দুইজন সুকুমার রয়েছেন। একজন ওপার বাংলার সুকুমার রায় আর একজন এপার বাংলার সুকুমার বড়ুয়া। আমার মনে হয় তাঁর ছড়া লেখার প্রতিভা ঈশ্বর প্রদত্ত। গত চার দশক থেকে সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশিত হয়েছে। বাংলা ছড়াকে তিনি অনন্য মযার্দার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গত ২ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি চলে গেলেন পরপারে। তাঁর মৃত্যুতে ছড়াসাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। সুকুমার বড়ুয়া আজ আমাদের মাঝে নেই; কিন্তু তাঁর সৃজনশীলতা, তাঁর ছড়া যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধছড়া-জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া : শিশু-কিশোর সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
পরবর্তী নিবন্ধএক নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ