কাল আসছে ব্যালট পেপার সংসদীয় আসনে যাবে সোমবার

নির্বাচনী এলাকায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি ইসির

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

শেষ হয়ে আসছে প্রার্থী এবং তাদের কর্মীসমর্থকদের সকল ধরনের প্রচারপ্রচারণা। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা। আর মাত্র ৫দিন পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আগামী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে প্রার্থীদের সকল প্রচারপ্রচারণা। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রার্থী ও সমর্থকদের সকল ধরনের প্রচারপ্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। শেষ মুহূর্তের প্রচারপ্রচারণায় নগরীর অলিগলি থেকে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদও এখন সরগরম।

নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধসুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, গতকাল ব্যালট পেপার আনতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে গেছেন জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটি টিম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আজ অথবা কাল ব্যালট পেপার পৌঁছাবে চট্টগ্রাম। ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী এলাকাসমূহে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার। এর আগে নির্বাচনী সকল সামগ্রী পৌঁছে গেছে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ৭১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে সেনা বাহিনীর টহল টিমের সদস্যরা নগরীর পাশাপাশি জেলার সর্বত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন।

চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকা সমূহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৩১জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সুপ্রিম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলজেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র মিলে এখন ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রার্থী এবং তাদের কর্মীসমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচারপ্রচারণায় কোথাও উৎসবের আমেজআবার কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। শহর থেকে গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটের আলাপ চলছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। আসন ভিত্তিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ব্যালট পেপার ছাড়া অন্যান্য সকল নির্বাচন সামগ্রী পৌঁছে গেছে। ব্যালটবঙ সংশ্লিষ্ট উপজেলা গুলোতে আগে থেকেই মজুত রয়েছে। কালপরশুর মধ্যে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারও।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বাধীনতার ঘোষণার ব্যাপারে জিয়াকে আমিই পরামর্শ দিয়েছিলাম, দাবি অলির
পরবর্তী নিবন্ধশ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ না হলে কাল থেকে বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি স্কপের হুঁশিয়ারি