সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ অনতিবিলম্বে শুরু করা এবং ঘোষিত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং ব্যবসা–বাণিজ্যে স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
গতকাল সোমবার দৈনিক পূর্বকোণ সেন্টারের মরহুম ইউসুফ চৌধুরী কনফারেন্স হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনটির স্থায়ী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী এসব দাবি জানান। জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করলেও জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় আইন পাস না হওয়ায় তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় তাঁর দল বিজয়ী হলে চট্টগ্রামকে আবারও বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে চট্টগ্রামবাসী আশার আলো দেখেন এবং বিএনপিকে সরকার গঠনে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামবাসী মনে করেন, বর্তমান সরকারের মাধ্যমেই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা সম্ভব। তাই অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদে বাণিজ্যিক রাজধানী–সংক্রান্ত বিল পাস করে এ ঘোষণার কার্যকর বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে। কালুরঘাট সেতু প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কালুরঘাট সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় জোড়াতালি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। এ সেতু দিয়ে কক্সবাজারগামী রেল চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে কালুরঘাট রেলকাম সড়ক সেতু নির্মাণের দাবিতে চট্টগ্রামবাসী আন্দোলন–সংগ্রাম করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে কালুরঘাট রেলকাম সড়ক সেতুর নির্মাণফলক উন্মোচন করেন। কিন্তু দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও নির্মাণকাজ দৃশ্যমান না হওয়ায় চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভায় কমিটির মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সন্ত্রাস, খুন, চুরি–ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ধর্ষণের ঘটনা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তাঘাটে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং, গ্যাস সংকট ও সুপেয় পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সভায় বক্তারা বলেন, নগরীর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পাশাপাশি তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিকেল ৫টার পর হকারদের বসার জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তাঁরা।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির স্থায়ী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন, কমিটির মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর, স্থায়ী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. নূ ক ম আকবর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহীম, লায়ন নুরুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম, এস এম সিরাজ উদ্দোলা, কাজী গোলাপ রহমান, এম এ সবুর, এম হামিদ হোসাইন, সালাউদ্দীন আহমদ, জিকরুল হাবিবিল ওয়াহিদ, নোমান উল্লাহ বাহার, প্রফেসর বাহার উদ্দিন মো. জোবাইর, অ্যাডভোকেট মীর ফেরদৌস আলম সেলিম, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম চৌধুরী, এম গোফরান চৌধুরী প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












