কালুরঘাটে রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন ১৪ মে

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৫ এপ্রিল, ২০২৫ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীর উপর কালুরঘাটে আগামী ১৪ মে নতুন রেল ও সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিগ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুকআজম (বীরপ্রতীক)। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার বেলা ১১টায় বোয়ালখালী উপজেলায় গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইঞ্জিনিয়ার ওমর বিন নুরুল আবসারের কবর জিয়ারত ও ওমরের পরিবারের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এ কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফারুকআজম। তিনি বলেন, ‘আগামী ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসবেন চট্টগ্রামের সন্তান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খুব সম্ভাবনা রয়েছে এ সময় তিনি এই সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন।’

তিনি বলেন, শহীদ পরিবার তাদের প্রিয়জনকে আর ফিরে পাবেন না, তবে আমরা তাদের পাশে আছি। অন্যায় করলে বিচার হবে না, এমনটি হতে পারে না।

আমরা যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করি, তাহলে কিভাবে ন্যায়ের সমাজ গড়ে উঠবে? ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আরো কত মানুষকে আত্মত্যাগ করতে হবে? তাই অবশ্যই গণহত্যাকারীদের বিচার হতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম সারোয়ার, উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. খোরশেদুল আলম ও নায়েবে আমির ডা. আবু নাছের প্রমুখ।

রেলওয়ের অধীনে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পেরপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দোহাজারীকঙবাজার রেল লাইন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরীকে।

রেল ভবন সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট নতুন সেতুর পুরো টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার। প্রকল্পের ১১ হাজার ৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে ৭ হাজার ১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটি (ইডিপিএফ)। অবশিষ্ট ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের। ভূমি অধিগ্রহণ সরকারি অর্থায়নে হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি গত বছরের ৭ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেলকামরোড ব্রিজ নির্মাণ, ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২ দমমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার বাঁধ, ১১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, চট্টগ্রাম এবং কঙবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বর্তমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর নতুন রেলকামসড়ক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেলকামসড়ক সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ করবে।

শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুটি দীর্ঘ ১৪ মাস সংস্কার কাজ শেষে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সকাল থেকে সেতুর উপর পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। সংস্কারকৃত সেতুর ডান পাশে প্রথমবারের মত পথচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। এখন সেতু দিয়ে বাসট্রেনের সাথে পথচারীরাও হেঁটে পার হতে পারেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে জানাজার নামাজে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৬
পরবর্তী নিবন্ধরাউজানে ভাইদের হাতে প্রকৌশলী খুন