কারাগারে বন্দী অমিত মুহুরী হত্যা মামলার বিচার শুরুর আদেশ

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৩১ জানুয়ারি, ২০২২ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম কারাগারে খুনের শিকার অমিত মুহুরী হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি রিপন নাথের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় তিনি কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। গতকাল রোববার দুপুরে চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূইয়া এ আদেশ দেন। এর আগে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে রিপন নাথকে আদালত কক্ষে হাজির করা হয়। সকালে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হয়।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অনুপম চক্রবর্তী আজাদীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রোববার মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আগামী ১৫ মার্চ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হবে।
স্পর্শকাতর এ মামলায় তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৫ জুলাই রিপন নাথের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ডিবি পুলিশ। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিচারক তা আমলে নেন। চার্জশিটে বলা হয়, ঘুমানোর আগে রিপন নাথকে সিগারেট খেতে বারণ করে এবং পায়ের কাছে ঘুমাতে বলে অমিত মুহুরী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
২০১৯ সালের ২৯ মে রাতে চট্টগ্রাম কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের সুরক্ষিত ৬ নম্বর কক্ষে ঘুমে থাকা অবস্থায় ইট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে মাথা থেঁতলে দিয়ে কারাবন্দি যুবলীগকর্মী অমিত মুহুরীকে গুরুতর আঘাত করেন আরেক বন্দি রিপন নাথ। পরে তাকে কারা অভ্যন্তরের হাসপাতাল হয়ে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি পরদিন রিপন নাথের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান নগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আজিজ আহমেদ। মামলার এজহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম কারাগারের ১৫১৬৯/১৭ সিরিয়ালের হাজতি অমিত মুহুরী ও ৭১৩২/১৯ সিরিয়ালের হাজতি রিপন নাথ একই কক্ষে ছিলেন। এ সময় পাশেই দায়িত্ব পালন করছিলেন কারারক্ষী মো. শাহ পরান। ডাকাকাতির শব্দ শুনে তিনি ৬ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখতে পান- রাত ১০ টার দিকে রিপন নাথ অমিত মুহুরীর মাথায় একটি অর্ধ ভাঙা ইট দিয়ে আঘাত করছেন। পরে তিনিসহ কয়েকজন কারারক্ষী সেল কক্ষের তালা খুলে অমিত মুহুরীকে উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বন্ধু ইমরানুল করিম ইমন খুনের মামলায় (মামলা নম্বর ৪৬ (৮) ১৭) চট্টগ্রাম কারাগারে যান অমিত মুহুরী। আগের দিন ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমনকে খুন করে বেশভুষা পাল্টেই তিনি ওই নিরাময় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিজের বাসাতেই স্ত্রী বন্ধুদের সহযোগিতায় ওই বছরের ৯ আগস্ট ইমনকে খুন করে লাশ ড্রামে ভরে সিমেন্ট ঢালাই করে এনায়েত বাজারের রানীর দীঘিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিআরবির জোড়া খুনের মামলাসহ তাকে আরও ১৬টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অমিত কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকানন এলাকার গোলাপ সিং লেনের অরুণ মুহুরীর ছেলে। একই সময় অস্ত্র আইনের কয়েকটি ধারার পাহাড়তলী থানার একটি মামলায় ( মামলা নম্বর ১৯ (৪) ১৯) গ্রেপ্তার হয়ে রিপন নাথও সেখানে ছিলেন। সীতাকুণ্ডের হেমন্ত সরকার বাড়ির নারায়ণ নাথের এ ছেলে এক সময় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাবেক জেলার সোহেল রানার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পরবর্তী নিবন্ধবারোর বেশি সবাই পাবে টিকা বয়স ৪০ হলেই বুস্টার