একটা লাইফে বিয়ে এবং বৈবাহিক সম্পর্ক সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দু‘পক্ষের আস্থা, বিশ্বাস, দায়িত্ব, কর্তব্য ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ এই সম্পর্ক। যদি কোনো কারণে কোনো কিছুর ঘাটতি হয় তবে সেই সম্পর্কে তিক্ততা আসতে বেশিদিন লাগে না। এখানে আমাদের সমাজেরও অনেকাংশে দায়বদ্ধতা আছে। বেশিরভাগ সময় আমরা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে বেশি আগ্রহ পোষণ করি যার ফলে সেই ব্যক্তিটি সামজিক দৃষ্টিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভুল ডিসিশন নিয়ে থাকে।
একটা মানুষের বিয়ের আগে থেকে বুঝা দরকার তার বিবাহিত জীবনকে সমস্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারবে কিনা! যদি সেই বিষয়ে উদাসীনতা থাকে তবে তার বিয়ে থেকে বিরত থাকা উচিত এবং সময় নেয়া দরকার। কারণ বিষয়টা আর নিজের একা থাকে না বলে দুটো জীবন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যদি শারীরিক আকর্ষণের জন্য বিয়ে করা হয় তবে সেটা আরও ভুল ডিসিশন। কারণ শারীরিক ইফেকশন একজনের প্রতি বেশিদিন থাকে না ফলে সেই ব্যক্তির উপর একঘেঁয়েমী চলে আসতে পারে আর তখন সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাটা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেক সময় আমরা লোকজনের মুখে বলতে দেখি, বিয়ে করিয়ে দাও তাহলে ঠিক হয়ে যাবে। এরপর বলেন বাচ্চা হলে দায়িত্ব বাড়লে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা ঠিক হয় না এবং পরে দেখা যায় পরিবারটা ধ্বংস হতে থাকে। আমাদের নিজস্ব মতামত কারও ব্যক্তিগত জীবনে চাপিয়ে দেয়াটা মনে হয় না সঠিক বিষয়। প্রত্যেকের স্বতন্ত্র একটা জীবন থাকে কিন্তু আমাদের সমাজের কটুদৃষ্টি তার মধ্যে ঢুকে পড়ে বিধায় অনেকে না চাইতে অনেক কিছু করতে বাধ্য হয়। পরে দেখা যায় সেই লোকজনই ঐ বিষয় নিয়ে সমালোচনা করছে।
বিয়েটা সত্যি অনেক সিরিয়াস বিষয় এবং সন্তানের জন্ম দেয়াও তার চেয়ে বেশি সিরিয়াস বিষয়। যদি সে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে না পারে তবে সমাজের কথা ভেবে একটা আগত জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়ার কোনো মানে হয় না। আর যদি সম্পর্কে সুন্দর বোঝাপড়া না থাকে তবে জোর করে পাহাড় ঠেলারও কী দরকার? সেপারেশন হয়ে যাওয়াই উত্তম। কারও প্রতারণার আশ্রয় নেয়া উচিত নয়। কোনো কারণে আত্মঘাতী হওয়াও কখনো বুদ্ধির কাজ নয়। আত্মহত্যা কখনো কোনো সমাধান সৃষ্টি করে না। আত্মহত্যা করে কারও প্রতি ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা প্রকাশ করা যায় না। আজকাল যেকোনো বিষয়ে আত্মহত্যা করার প্রবণতা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন আত্মহত্যাগুলো আরও প্ররোচণা দেয় মানুষকে। সবার জীবনে হতাশা থাকবে এই আত্মহত্যা দেখে অনেকের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাবে। বিশেষ করে সমাজ কী বলবে আর সমাজের প্রশ্নের মুখে না পড়তে এই ভুল কাজটা করে বসছে অনেকে। পড়ালেখা থেকে শুরু করে দাম্পত্য জীবন, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সব বিষয়ে সমাজের মাথা না ঘামালে নয়। আর এজন্যই অনেকের জন্য জীবন অনেক সস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি পরচর্চা ও কারও ব্যক্তিগত জীবনে ইন্টারফেয়ার না করি তবে অনেকে তার স্বতন্ত্রতায় চলতে পারবে। কেউ যদি দোষ করে থাকে তবে তার জন্য নিজেকে দোষী ভাবা ঠিক নয়। আমাদের সমাজব্যবস্থা এখনও অনেক দুর্বল ও নাজুক এবং কে কী বলবে এই সবকে পাত্তা দেয়া হয় বলে মানবিক অধিকারকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি না।











