কাফন পরে মৌন মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

চতুর্থ দিনে হাসপাতালে ১৫ অনশনকারী II মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে শিক্ষক প্রতিনিধিদল ঢাকায়

| রবিবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২২ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রতীকী লাশ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন; আর ভিসির বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন আটজন। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় গিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের। গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মৌন মিছিলটি ক্যাম্পাসে চেতনা৭১ পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। এরপর একই পথ ধরে মৌন মিছিলটি পুনরায় গোলচত্বরে এসে জড়ো হয়। এতে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশন কর্মসূচির মাঝেই আমরা কাফনের কাপড় পরে মৌনমিছিল করেছি। আমাদের ২৩ জন ভাইবোন ৭২ ঘণ্টা ধরে না খেয়ে আছে। এরপরও এই নির্লজ্জ উপাচার্যের পদ থেকে সরছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের অনশনরত ভাইবোনেরা অনেক কষ্ট করছে। আমাদের কাফন মিছিলের প্রধান কারণ হল, এখনও এই উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না, সেজন্য আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এ সময় সেখানে একজন আন্দোলনকারী ঘোষণা দেন, সন্ধ্যা ৬টায় গোলচত্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে। সেখানে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া অনশনের চতুর্থ দিনে গতকাল সকালে একজন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গেলেও দুপুরে তিনি ফিরে অনশনে বসেছেন। এর আগে শুক্রবার বিকালে ও রাতে আরও দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এসে ফের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনশনস্থলের স্বেচ্ছাসেবক আমিনা দুপুরে বলেন, আমাদের অনশনরতদের মধ্যে ১৫ জন এখন হাসপাতালে আছেন। নয়জন মেয়েই হাসপাতালে, বাকি ছয়জন ছেলে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দুই জন এবং রাগীবরাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই জন।

এদিকে শুক্রবার রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাসের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল দুপুর তুলসী কুমার বলেন, আমরা এখন ঢাকায় আছি। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা এখনও হয়নি। আলোচনা হলে সুষ্ঠু সমাধান পাব বলে আমরা আশাবাদী।

তিন দফা দাবি নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে এক দফায় এসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে গত ১৫ জানুয়ারি পুলিশের রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষপের পর। এরপর থেকে শাবি ক্যাম্পাসে উত্তাল পরিস্থিতি, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন পদত্যাগ করছে না বলে গত বুধবার বিকাল ৩টা থেকে আমরণ অনশনে যায় শিক্ষার্থীরা। ২৩ আমরণ অনশনকারীর মধ্যে হাসপাতালে আছে ১৫ জন।

শুক্রবার বিকাল ৩টা ৬ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল ইসলাম নাদেলের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনির সাথে মুঠোফোনে কথা হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় যেতে আহ্‌বান জানান এবং তাদের দাবি সম্পর্কে আলোচনার কথা বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শফিউল ইসলাম নাদেলের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীকে জানান, আপনি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি দেখুন, আমরা কেমন আছি, আমাদের অনেকেই অসুস্থ, আমরা তাদেরকে রেখে যেতে চাই না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোটে আগুন
পরবর্তী নিবন্ধকেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান আবারও সিআইপি নির্বাচিত