কাপড়ের আড়ালে মদ আমদানি, এভাবেই দেশ চলবে?

প্রশ্ন এনবিআর চেয়ারম্যানের

| বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

কাপড় বা পোশাকের আড়ালে মদ আমদানি বন্ধ না হওয়ায় দেশের বার ও হোটেল মালিকদের এক হাত নিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। বার ও হোটেলগুলোর আমদানি ও বিক্রির তথ্যের মধ্যে মিল না থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আবার এটাও দেখি যে বিমানবন্দরে, সমুদ্রবন্দরে বড় বড় কন্টেইনার ধরা পড়ে। বলতেছে কাপড় আনছে, খুলে দেখি সব মদ। তার মানে হলোআনুষ্ঠানিক রেকর্ডে কোনো আমদানি নাই, কিন্তু আপনাদের ওখানে কনজাম্পশন হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, এগুলো কীভাবে দূর করবেন? দয়া করে এগুলো কি? এভাবেই দেশ চলবে? না কি, আপনারা আস্তে আস্তে ডিসিপ্লিনের মধ্যে আসবেন? সেগুলো একটু আমাদের দয়া করে সহায়তা করবেন।

গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে তারকা হোটেল, বার ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আগামী ২০২৬২৭ অর্থবছরের জন্য প্রাকবাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বলেন। খবর বিডিনিউজের।

এসময় টেলিযোগাযোগ খাত ও সিগারেটের মত এ খাতেও বাড়তি করপোরেট করহার বাড়ানোর আভাস দেন তিনি। তার ভাষ্য, এটি ‘সিন ট্যাঙ’ হিসেবে করা হবে। বর্তমানে এ খাতে অন্য কোম্পানির মত সাড়ে ২৭ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। আবদুর রহমান বলেন, কিন্তু মদ যারা তৈরি করেন এবং মদ যারা পরিবেশন করেন, তাদের কর কিন্তু খুবই কম, একেবারে সাধারণ ব্যবসার মতো। তো এই জায়গাটাতে আমরা যদি একটু আপনাদেরকে অনুরোধ করিযেহেতু আপনারা অনেকটা বলা যায় আমাদের স্বাস্থ্য এবং সমাজ, দুইটার জন্যই ক্ষতিকারক কাজের সাথে জড়িত আছেন, আপনাদেরকে একটু কর বাড়াতে চাই। সিন ট্যাঙ, এটা একটু আপনারা দয়া করে মাথায় রাখবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খালেদ উর রহমান বলেন, একটা জিনিস বলি আমাদের স্টার হোটেলগুলো এখানে, সংগঠনের সদস্য মাত্র ৫৪। কারণ এখানে থ্রি টু ফাইভ স্টার হোটেল ছাড়া অন্য কোনো হোটেল নাই। এবং এখানে শতভাগ কমপ্লাই করি সবকিছু। আমাদের এখানে ভ্যাটের লোকজনের নজর সবচাইতে বেশি থাকে। এখানে সবকিছু ওপেন। মদ ও বিয়ার আমদানিতে শুল্ক যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করা হয় তাদের তরফে। বার মালিকদের তরফেও একই প্রস্তাব মেলে। এদিন দুপুরে ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও বীমা সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এনবিআর।

সেখানে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, এখন আমাদের একটা জিনিস দেখলাম যে ওই ট্যাঙ রিটার্নের প্রুফ অফ সাবমিশন যেটা আপনি ক্রেডিট কার্ডের জন্য তুলে দিয়েছেন, তো ওইটাই আবার আপনার আমাদের লাগছে ২০ লাখ টাকার ওপরে কেউ লোন নিতে গেলে আর ১০ লাখ টাকার ওপরে কোনো আমানত খুলতে গেলে। আমি লম্বা করে অনেক বিস্তৃত বলতে পারি, সংক্ষেপে বললে এর ফলে অনেক টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকছে না। তিনি আমানতের বিপরীতে যে আবগারি শুল্ক কাটা হয় তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপতেঙ্গায় ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধআড়াই মাসেও নিয়োগ হয়নি নতুন বিচারক