রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে বিভিন্ন সময়ে নৌ–দুর্ঘটনার কারণে জানতে চেয়েছেন রাঙামাটির একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার জেলার জিআর আমলি আদালত–১ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আলম চৌধুরীর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দিয়েছেন।
আদেশে বিচারক আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য নৌ–পুলিশ রাঙামাটির পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নৌ–পুলিশের পরিদর্শককে তদন্তে সহায়তার জন্য রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।
আদেশে আদালত বলেছেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের বৃহত্তম ও এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। প্রতি বছর রাঙামাটি জেলা ও কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটে। তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন ধরনের নৌকায় চড়ে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কিন্তু লক্ষ লক্ষ পর্যটকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, সরকারি–বেসরকারি পর্যটন রিসোর্টগুলোর চরম উদাসীনতা ও গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়।
আদেশে আদালত নৌ–দুর্ঘটনায় নৌকার মালিক ও চালকদের কোনো অবহেলা ছিল কিনা; নৌকার বৈধ রেজিস্ট্রেশন/লাইসেন্স ছিল কিনা; নৌকায় ১৯ জন যাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল কিনা; যাত্রী সংখ্যা নৌকার নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার মধ্যে ছিল কিনা; চালক প্রশিক্ষিত ও বৈধ লাইসেন্সধারী ছিলেন কিনা; চালকের অদক্ষতা ও অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা এবং কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী কতটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নৌ–যান আছে– তা জানতে চেয়েছেন।
রাঙামাটি জিআর আমলি আদালত–১ এর জিআরও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, বিজ্ঞ আদালত কাপ্তাই হ্রদে নৌ–দুর্ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে নৌ–পুলিশের ইন্সপেক্টরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত পরবর্তীতে আদেশ দেবেন। এর আগে, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বিকালে কাপ্তাই হ্রদের শিলছড়ি এলাকায় সুবলং থেকে ফেরার পথে একটি ট্যুরিস্ট বোট ডুবে যায়। তবে বোটটিতে ১৯ জন যাত্রী থাকলেও আশপাশে নৌকা এসে তাদের উদ্ধার করার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় বোটটি।









