জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতেও। তেল সংকটে মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দুইদিন কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেল সংকটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির তথ্য মতে, রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে জেলার ছয়টি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলায় নৌ–পথে প্রায় ৩০–৩৫টি যাত্রীবাহী চলাচল লঞ্চ করে। এসব লঞ্চে দৈনিক প্রায় ১০০০–১২০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। ঈদের আগে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর থেকে চাহিদা অনুযায়ী পাম্প থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় এখন লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, দুয়েকদিন পরেও তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে নৌ–পথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই আপাতত লঞ্চ চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রাঙামাটির রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাটের লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে বলেন, জ্বালানি কিছুটা সাশ্রয়ী করার জন্য আমরা কিছু রুটে লঞ্চ চলাচল সীমিত করেছি। আগে রাঙামাটি শহর থেকে মারিশ্যায় চারটি লঞ্চ আসা–যাওয়া করতো, এখন করবে তিনটি। এছাড়া লংগদু–মাইনী রুটে চারটি আসা–যাওয়া করতো, এখন করবে তিনটি। এছাড়া বরকলে চারটি যেত, এখন যাবে দুটি। আপাতত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এরকম করে চলবে। পরবর্তী তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আগের নিয়মে লঞ্চগুলো চলাচল করবে।
এদিকে দুদিন ধরে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে জানিয়ে ফিশারি ঘাটের স্পিডবোট ঘাটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, অকটেন না পাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে দুইদিন স্পিড বোট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাম্পগুলো থেকে আমরা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সংকট তো হওয়ার কথা না। কারণ যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোটগুলোকে তো একদিন পরেই তেল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও আমরা তাদের কথা বলে এই সমস্যা কিভাবে সমাধান করে দিতে পারি সেটা দেখতেছি।













