কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে নতুন হাতি শাবকের জন্ম, বেড়েছে সংখ্যা

অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই প্রতিনিধি | রবিবার , ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বনাঞ্চল কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে নতুন একটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে। মাত্র দুইদিন আগে অর্থাৎ গত শুক্রবার এই হাতির শাবকটির জন্ম হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন।

নতুন বছরে এই প্রথম হাতির শাবকের জন্মে বেশ আনন্দিত বনবিভাগ সদস্যরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানসহ এর আশপাশের এলাকায় বুনো হাতির উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এতে করে হাতি মানুষের মাঝে দ্বন্ধের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ তুলেছিলো বনে খাবার সংকটে লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল।

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। বিশেষ করে বর্তমানে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থল বাড়ছে বলেই এবং পর্যাপ্ত খাদ্য পাচ্ছে বলেই নতুন একটি হাতি শাবকের সুস্থভাবে জন্ম হয়েছে।

তাছাড়া বনবিভাগ চেষ্টা করছে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানকে আরো সমৃদ্ধি করতে যেন বুনো হাতির পাশাপাশি অনান্য বন্যপ্রাণী সুস্থ সবল ও নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে কথা হলে রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, এই নতুন বছরে নতুন হাতি শাবকের জন্ম এটি আসলেই আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আমরা বনবিভাগ বুনো হাতিদের আবাসস্থল রক্ষায় ও খাদ্য সংকট দূর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ বনাঞ্চল। এখানে প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি বুনো হাতি পাল সমেত ঘুরাঘুরি করে। বুনো হাতি ছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও বনোজ সম্পদ রয়েছে। বিগত বছর গুলোতেও এই উদ্যানে দুই থেকে তিনটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে।

তবে এই নতুন বছরে প্রথম একটি শাবকের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে আমরা শাবকটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় বুনো হাতির পালটির দিকে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। এছাড়া কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির খাদ্য বৃদ্ধিকরণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করছি। এর ফলে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থল এর পরিধি আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক হাতি মানুষের যেই দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়েছিল এর জন্য মানুষেরও দায় রয়েছে। কেননা হাতির আবাসস্থল অর্থাৎ হাতি চলাচলের যেখানে করিডোর রয়েছে সেখানে মানুষ চলাচলের পাকা রাস্তা তৈরি করেছে, বসতি তৈরি করেছে, বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছে। এতে করে হাতি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

যার ফলে উত্তেজিত হয়ে বন্যহাতি মানুষ ও জানমালের ওপর আক্রমন করে বসছে। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। হাতি বনের প্রাণী। কিন্তু মানুষ হচ্ছে সৃষ্টির সেরা জীব। হাতি সুরক্ষায় সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বনবিভাগকে তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে হবে। তাতে করেই সফলতা পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সংরক্ষিত বন। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫ হাজার ৪শত ৬৪ হেক্টর আয়তনের এই উদ্যানে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চল, সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি ঝিরি, ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়ারণ্য রয়েছে। এটি বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বেশ পরিচিত।

এটি বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এবং দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য এলাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে ‘হাসনাত বাহিনীর’ প্রধান হাসনাতকে আটক