বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক হারে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র ৪ নম্বর ইউনিটটি সচল রাখা হয়েছে। বাকি ৪টি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। একমাত্র সচল ইউনিটটি থেকে বর্তমানে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ অনুযায়ী শনিবার কাপ্তাই লেকে পানি থাকার কথা ৮২ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু এই মুহূর্তে লেকে পানি আছে ৭৭ ফুট এমএসএল। লেকে পানি কম থাকায় ৫টি ইউনিটের সবগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এটিএম আব্দুজ্জাহের কাপ্তাই লেকে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অনাবৃষ্টি, খরা এবং কাপ্তাই লেকের গভীরতা কমে যাওয়ায় লেকে পানি কম রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে লেকে পানি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপর্যয় নামার পাশাপাশি কাপ্তাই লেকে নৌ যোগাযোগেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। লেকে পানি কম থাকায় রাঙামাটি উপজেলা সদরসহ বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, লংগদু, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি উপজেলায় নৌ যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত করা যাচ্ছে না। এর ফলে সর্বস্তরের জনগণ চরম বিপাকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে বরকল থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, লেকে পানি কম থাকায় নৌকা নিয়ে দুর্গম ঠেগামুখ যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতেই হবে। এখন টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান।












