কাপ্তাইয়ে দেশের একমাত্র কার্গো ট্রলি বন্ধ

লেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার কাঁচামাল, সমস্যায় হাজারো মানুষ

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ার পার্শ্ববর্তী রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধে আটকা পড়া নৌযোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কার্গো ট্রলি দীর্ঘ ২০ দিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের একমাত্র এই কার্গো সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাপ্তাই লেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার বাঁশ ও বিভিন্ন পচনশীল কাঁচামাল। কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক, দিনমজুর ও ব্যবসায়ী।

গত বুধবার কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারস্থ কার্গো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে নিথর পড়ে আছে বিশালকার কার্গো ট্রলিটি। অন্যদিকে কাপ্তাই লেকে হাজার হাজার বাঁশের চালিসহ কোটি টাকা মূল্যের কাঁচামাল পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে কিছু কাঁচামালে পচন ধরেছে। কাপ্তাই বাঁধের কারণে লেক এবং কর্ণফুলী নদীর উচ্চতার যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা পারাপারের একমাত্র যান্ত্রিক সেতু এই ট্রলি। এটি বন্ধ থাকায় পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী নৌকাগুলো নদী অংশে নামতে পারে না। তাই এই কার্গো সার্ভিসের সাহায্যে কাপ্তাই লেক থেকে বোট, নৌকা, বাঁশসহ রাঙামাটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাহাড়ি কাঁচামাল কাপ্তাই সড়কের উপর দিয়ে পরিবহন করে অপর পাড়ে কর্ণফুলী নদীতে পাড় করে দেয়া হয়। দীর্ঘ বছর ধরে এই কার্যক্রম চলে এলেও গত এক দশক ধরে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয় এবং সর্বশেষ গত ২০ দিন ধর একেবারে বন্ধ হয়ে যায় কার্গো ট্রলিটি।

বাঁশ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ময়ূর ও মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, পুরাতন এই কার্গো ট্রলিটি গত ১০ বছর ধরেই ত্রুটিপূর্ণ। ৫ আগস্টের আগে ভারতের ‘মজুমদার ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এটি মেরামতের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যায়। বর্তমানে ১৮২০ দিন ধরে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ। পিডিবি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার বাঁশ ও কাঁচামাল এখন লেকেই পচে যাচ্ছে।

কার্গো শ্রমিক মো. ইউনূস ও নূর জানান, দীর্ঘ ২০ দিন ধরে আয়রোজগার বন্ধ থাকায় তাদের ঘরে চুলা জ্বলছে না। দ্রুত সমাধান না হলে বেকার শ্রমিকদের অনেকেই অনৈতিক পথে পা বাড়াতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।

কার্গো মালামাল প্রণালীর কর্ম নায়ক গোলাম কিবরিয়া জানান, এটি বাংলাদেশের একমাত্র এবং অত্যন্ত পুরনো একটি প্রজেক্ট। বর্তমানে ট্রলি ঠিক থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান ক্যাবলটিতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এই বিশেষ ধরনের ক্যাবল বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এটি বিদেশ থেকে সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কাপ্তাই কার্গো ট্রলির দায়িত্বে নিয়োজিত পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নষ্ট হওয়া ক্যাবলটি আমদানির চেষ্টা চলছে, যা হাতে পেলেই মেরামত কাজ শুরু হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবি, কয়েক হাজার মানুষের জীবনজীবিকা এবং কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এই কার্গো ট্রলিটি সচল করা এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্রেপ্তার এড়াতে পুকুরে ঝাঁপ, তবু রক্ষা পেলেন না
পরবর্তী নিবন্ধবহুমুখী সংকটে জেলেরা