কাটা হাত-পায়ের পর এবার খালে মিলল যুবকের মাথা

বায়েজিদে পরকীয়ার জেরে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, প্রেমিকা গ্রেপ্তার বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যার পর ৫ টুকরো করা হয় লাশ

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বায়েজিদে যুবকের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা দুই হাত ও দুই পা উদ্ধারের মতো লৌমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের অবশেষে রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধারের পর এবার খাল থেকে ওই যুবকের খণ্ডিত মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর হত্যার শিকার ওই যুবকের নাম আনিস। তার গ্রামের বাড়ি রাউজান। গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার লোহারপুর এলাকার খালে তল্লাশি চালিয়ে আনিসের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমীরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সুফিয়া নামের এক নারীকে শহীদনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরকীয়া প্রেম এবং পাওনা টাকার জেরে আনিসকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর তার লাশ ৫ টুকরো করে প্রেমিকা সুফিয়া বিভিন্ন খালে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেম এবং পাওনা টাকার জেরে খুন হওয়া আনিস নামের সেই যুবক অক্সিজেন এলাকায় কসাইয়ের কাজ করতেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহীদনগর এলাকায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় তার দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়।

গতকাল শুক্রবার দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ ওই যুবক আঙ্গুলের বায়োমেট্রিক ছাপ নিয়ে তার বাড়ি রাউজান বলে নিশ্চিত হয়। তবে সেই সময় তদন্তের স্বার্থে নাম গোপন রাখে। এরপর নিহতের দেহের বাকি অংশের সন্ধান এবং অপরাধীদের ধরতে অভিযানে নামে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শহীদনগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী প্রেমিকা সুফিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এর পাশাপাশি তার ভাই মুছা ও মেয়ের হবু জামাইকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার সুফিয়ার বাড়িও রাউজানে। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমীরুল ইসলাম বলেন, আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী সুফিয়া ও আনিসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আনিস অক্সিজেন এলাকায় কসাইয়ের কাজ করতেন। সামপ্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া পুলিশকে বলেছেন, সমপ্রতি তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছিলেন আনিস।

এর জেরে তিনি আনিসকে বাসায় ডেকে এনে ‘মাথায় আঘাত করে হত্যার পর’ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে শহীদনগর, লোহারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন। পুলিশ শুক্রবার (গতকাল) বিকেলে লোহারপুল এলাকার একটি খাল থেকে আনিসের মাথার অংশ উদ্ধার করে। সুফিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা ওই ব্যক্তির লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করেছি। তার ভাই এ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর জানান, মঙ্গলবার থেকে নিহত আনিস নিখোঁজ ছিল। এর আগে গত বুধবার তার দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে পরিচয় জানার পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। আমরা শরীরের একাধিক অংশ উদ্ধার করেছি। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে খাল থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত আনিসের স্বজনরা জানান, সুফিয়াকে তিনি দুই লাখ আশি হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা চাইলে সুফিয়া ডেকে নিয়ে আনিসকে হত্যা করেছে।

সুফিয়ার স্বজনরা জানান, নির্মম হত্যার শিকার আনিস তার প্রেমিকা সুফিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময়ের ছবি এবং ভিডিও করে রেখে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। সেই ক্ষোভ থেকে সুফিয়া আনিসকে হত্যা করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচলন্ত ট্রেনে চাকুরিচ্যুত ব্যাংকারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে গ্যাসের সমস্যা হবে না