পশ্চাদপদ বিশ্বাস ও সংস্কারের নিকষ কালো অন্ধকারে, বিভ্রান্তির কুহেলিকায় মানুষ যখন যুক্তি ও বুদ্ধির কথা ভুলে সর্বনাশা সংকীর্ণতার চোরাবালিতে ডুবে যায়, সংখ্যাধিক্যের জোরে শ্রেষ্ঠত্বের দাবী নিয়ে অন্যের মত ও বিশ্বাসকে তুচ্ছ ও ক্ষতিকর মনে করে সমাজে হিংসা, বিভেদ ও ভীতির আবহ তৈরি করে, তখনি প্রাকৃতিক নিয়মেই এই অপশক্তি ও আপদের অচলায়তনের মধ্যে সব সময় বিপরীতমুখী কিন্তু সুস্থ ও কল্যাণকামী চিন্তাভাবনা ও দ্রোহী কিছু নির্ভীক, মুক্ত–হৃদয় ও মনের মানুষ উঠে আসেন যাঁরা যুক্তি ও বুদ্ধির নিরিখে জীবন ও জগতে সতত ঘটে চলা পরিবর্তনকে চরম বৈরী পরিবেশেও সত্য বলে প্রচার করেন। ধর্ম, অতীত ঐতিহ্য ও গৌরবকে বস্তুনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করে প্রচলিত অন্ধ সংস্কার ও জীবনাচারের অসারতাকে অর্থহীন প্রতিপন্ন করে পুরো সমাজকে জাগিয়ে তোলার সংকল্পে জীবনোৎসর্গ করেন। এঁদের মধ্যে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের মুসলিম পুনর্জাগরণের অন্যতম অগ্রপথিক বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষক ও ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের’ সংগঠক কাজী আবদুল ওদুদ সর্বাগ্রগণ্য ও সর্বজনশ্রদ্ধেয়।
এ বছর তাঁরই উদ্যোগে স্থাপিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষপূর্ণ হল। তিনি ছিলেন সেই বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ। যুক্তি বিবর্জিত আরো পিছনে চলতে থাকা সমাজে আজকে তিনি ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। উনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে রামমোহন যেমন কুখ্যাত সতীদাহ প্রথা নিবারণ ও পৌত্তলিকতার বিপরীতে নিরাকার ঈশ্বরের সাধনায় সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, তেমনিভাবে কাজী আবদুল ওদুদ তাঁর আদর্শ, মহানবীর জীবন ও শিক্ষার আলোয় মুসলিম সমাজকে সংস্কারমুক্ত, উদার শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করতে চেয়েছিলেন। রামমোহন ইসলামের তৌহিদ বা একত্বের বাণীতে প্রাণিত হয়ে পৌত্তলিকতা বিরোধী ও সংস্কারমুক্ত আলাদা ব্রাহ্ম ধর্ম প্রচার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর ভাবশিষ্য ও একজন ব্রাহ্ম। আবদুল ওদুদ তাঁর সাহিত্য ও কর্মজীবনে রামমোহন ও রবীন্দ্রনাথের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হন।
বিখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশংকর রায় কাজী আবদুল ওদুদের জীবন ও কর্মসাধনার মূল্যায়ন করতে গিয়ে যথার্থভাবেই লিখেছেন ‘কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন জাতিতে ভারতীয়, ভাষায় বাঙালি, ধর্মে মুসলমান, জীবনদর্শনে মানবিকতাবাদী, মতবাদে রামমোহন পন্থী, সাহিত্যে গ্যাটে রবীন্দ্রপন্থী, রাজনীতিতে গান্ধীপন্থী, অর্থনৈতিক শ্রেণি বিচারে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক, সামাজিক ধ্যান–ধারণায় ভিক্টোরিয়ান লিবারেল।’ সেই লিবারেলিজমের পথ ধরে ১৯২৬ সালে ঢাকায় শুরু করেন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন, যে আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল– ‘জ্ঞান যেখানে রুদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’
কাজী আবদুল ওদুদ ১৮৯৪ সালে ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা থানার বাগমারা গ্রামে এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯১৩ সালে মাসিক দশ টাকা বৃত্তি পেয়ে তিনি প্রবেশিকা পাশ করেন। ১৯১৭ সালে প্রেসিডেন্সী থেকে বি.এ এবং ১৯১৯ সালে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। স্কুলে পড়ার সময় অক্ষয় কুমার দত্তের ‘বাহ্য বস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ’ নামক বইটি পড়ে তিনি প্রভাবিত হন এবং জীবন ও জগত নিয়ে একটি বিজ্ঞানমনস্ক বিশ্ববীক্ষা তাঁর মধ্যে গড়ে উঠতে থাকে। তখন থেকেই তিনি সিদ্ধান্তে আসেন যে বিচার না করে, না ভেবে তিনি কোন ধারণা বা আচারের বশবর্তী হয়ে চলবেন না। ১৯১৮ সালে তাঁর প্রথম গল্প গ্রন্থ ‘মীর পরিবার’ প্রকাশিত হয়। ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নদীবক্ষে’। পদ্মাপাড়ের বাগমারা গ্রামে বড় হয়ে উঠা ওদুদ এ উপন্যাসে উত্তাল পদ্মার বক্ষে মাঝিদের সংগ্রামমুখর জীবন ও সাধারণ মুসলমান কৃষকদের জীবনের দুঃখ–বেদনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা গ্রামীণ কৃষি জীবনের ছবি এঁকেছেন। এ উপন্যাসের উচ্চ প্রশংসা করে রবীন্দ্রনাথ লেখেন যে এ উপন্যাসের বিষয়বস্তুর নতুনত্ব, মাধুর্য ও সহজিয়া সুর পাঠককে মুগ্ধ করে। ম্যাথু আর্নল্ডের ভাষায় সাহিত্যে তিনি ‘যরময ংবৎরড়ঁংহবংং’ এ বিশ্বাস করতেন, মনে করতেন সৃজনশীল সাহিত্য প্রকৃত অর্থে মানুষের জন্য ঐশ্বরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জাগাতে পারে। ১৯২০ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে বাংলা বিষয়ে একজন প্রভাষকের পদ খালি হলে তিনি আবেদন করেন ও রবীন্দ্রনাথ প্রশংসিত উপরোক্ত সাহিত্যকৃতির জন্যে দীনেশ চন্দ্র সেনের সুপারিশে রাজনৈতিক অর্থনীতির ছাত্র হয়েও তিনি বাংলার শিক্ষক হিসাবে ঐ কলেজে নিয়োগ পান। সেই থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতার কাজে ঢাকায় অবস্থান করেন। ১৯৪০ সনে তিনি নতুন সরকারি চাকরি নিয়ে কলকাতায় চলে যান। বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনকে রক্ষণশীল পশ্চাদপদ ভাবধারায় আচ্ছন্ন খেলাফত আন্দোলনের সাথে মিলিয়ে ফেলার জন্য গান্ধী সমর্থক হয়েও তিনি গান্ধীর বিরোধিতা করেন। তিনি এ সময় ফরাসী মনীষী রোমারোঁলার ‘জাঁ–ক্রিস্তফ” উপন্যাসটি পড়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন এবং জীবন ও জগত সম্পর্কে মানবিক ভাবনায় তিনি এতটাই মোহিত হন যে, পরবর্তীতে ঐ উপন্যাসের বক্তব্যের আদলে ‘আজাদ’ নামে এক বিরাট উপন্যাস লেখেন যার প্রথম খণ্ড ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি ও অধ্যাপক আবুল হুসেন মিলে তাঁদের অনুসারী শুভানুধ্যায়ী ও উৎসাহী ছাত্র তরুণদের অনুরোধে ঐ বছর ১৯২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ নামে বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে ঢাকা তথা বাংলার সাহিত্য–সামাজিক ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক সংগঠন। এর প্রথম অধিবেশনে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে। তাঁদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল প্রমুখ। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং ছিলেন এ সংগঠনের আশীর্বাদক। ১৯২৭ সালের এপ্রিলে সংগঠনের মুখপত্র হিসাবে ‘শিখা’ নামে একটি বার্ষিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৯৩১ সাল পর্যন্ত চালু থাকা এ পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা সভার বিষয়বস্তু তথা সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ, ইহজাগতিক ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা সহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখা থাকত। পত্রিকাটি স্বল্পস্থায়ী হলেও বাংলার সারস্বত সমাজে তা সাড়া ফেলে যে কারণে মুসলিম সাহিত্য সমাজের সংগঠক ও সমর্থক গোষ্ঠীকে ‘শিখা গোষ্ঠী’ বলা হত। কাজী আবদুল ওদুদ সংগঠনের নাম ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ রাখার জন্য দুটো কারণের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত: বাঙালি মুসলিম সমাজের কাছে রেনেঁসার বাণী তথা মানুষ কেন্দ্রিক ইহজাগতিক বাস্তবতা ও মুক্ত বুদ্ধির চর্চার কথা তুলে ধরা, দ্বিতীয়ত: সাহিত্যের মাধ্যমে অবহেলিত মুসলমান সমাজের জীবন ভাবনা সঠিকভাবে চিত্রিত করা যা তাঁর মতে মেধাবী হিন্দু সাহিত্যিকরা করতে পারেন নি। এ সময়ে পারস্যের কবি শেখ সাদি, ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, হাফিজ ও জালাল উদ্দীন রুমী প্রমুখের উদার মানবতাবাদী ও লৌকিক ভাবনা সমৃদ্ধ কাব্য সম্ভার তার দৃষ্টিকে প্রসারিত করে।
১৯২৬ সালে তিনি তাঁর মুক্ত জীবনভাবনা, দর্শন ও ধর্মানুভূতি নিয়ে দুই খণ্ডে রচিত ‘নব পর্যায়’ নামক গ্রন্থের প্রথম খণ্ড বের করেন। এই খণ্ডের বক্ষ্যমান দীর্ঘ প্রবন্ধ ‘সম্মোহিত মুসলমান’ মুসলিম সমাজে আলোড়ন তোলে। এতে তিনি লেখেন ‘জগতের জন্য ইসলামের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি। বরং ইসলামে আল্লাহর প্রতি একান্ত নির্ভরশীলতা, সাম্য ও মৈত্রীর বীর্যবন্ত সাধনা, জগতের জন্য আজো সেই সমস্তের দারুণতম প্রয়োজন। কিন্তু এই কল্যাণময় ইসলামকে বহন করে জগতের আর্ত ক্লিষ্ট নরনারী সেবায় পৌঁছে দেবে কে? নিশ্চয়ই সেটি তার দ্বারা সম্ভব নয় যিনি ধর্মগুরু বলে নিজের পরিচয় দেন কিন্তু হৃদয়ের দ্বার যার সাংঘাতিকভাবে বন্ধ’। এই প্রবন্ধে মুসলিম সমাজের জন্য তাঁর বেদনাবোধ, জীবন জিজ্ঞাসা, ইসলামের ইতিহাসের মুক্ত বিচার ও দর্শনোচিত প্রজ্ঞার পরিচয় দেখা যায়। উনবিংশ শতাব্দীর মুসলিম সমাজের সংস্কার প্রয়াসের মধ্যে নবাব আবদুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলী, মীর মোশারফ হোসেন, স্যার সৈয়দ আহমদ প্রমুখের মুসলমানদের প্রতি ইংরেজি ভাষা ও যুক্তিবাদী পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের তাগিদের তিনি যেমন সমর্থক ছিলেন অন্যদিক সে সময়ে প্রবল এবং অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য ভিত্তিক ফরায়েজী বিশেষ করে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রতি তিনি সমর্থন জানাতে পারেননি। ‘হযরত মোহাম্মদ ও ইসলাম’ বইতে তিনি নবীজীর মৃত্যুর পরে ইসলাম জগতে ভাবগত, রাষ্ট্রনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে যে সংকট দেখা দেয় তার কারণ উল্লেখ করে ব্যক্তিগতভাবে তাতে মুতাজিলাদের যুক্তিবাদী ভাবনার প্রতি তাঁর সমর্থন ও ইমাম গাজ্জালির প্রতি অনুরাগ দেখা যায়। উদার মানবিক জীবনেবোধের তাগিদে যেমন তিনি শাস্ত্রানুশীলন করেছেন তেমনি শাস্ত্র নিরপেক্ষ বিচার পদ্ধতির জন্য প্রথম মুসলিম দার্শনিক আল কিন্দির (৮০১–৭৩) দার্শনিক জিজ্ঞাসা তাঁকে পথের দিশা দেখিয়েছে। শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করতেন পৃথিবীতে কোন মতবাদ স্বয়ম্ভু নয় বরং তা পূর্বতন ঐতিহাসিক ভাবনা চিন্তার ধারাবাহিকতার নবতর এবং সৃজনশীল সংস্কার মাত্র। প্রফেসর আনিসুজ্জামান এর ভাষায় ‘মুতাজিলাদের চিন্তা, সাদীর হিতোপদেশ, আতাতুর্কের সেকুলার বিপ্লব, দাদু কবীরের ভক্তি সাধনা, রামমোহনের সংস্কার প্রচেষ্টা ও রবীন্দ্রনাথের অন্তর্দৃষ্টি’–এ সবকিছুই সেদিন ওদুদের মানস ভাবনা ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মর্মবস্তু ছিল। ১৯৩৫ সনে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে শান্তি নিকেতনে ‘নিজাম বক্তৃতা’ প্রদানের আহ্বান জানান। এ ছিল তাঁর কাছে পরম গৌরব ও উৎসাহের বিষয়। তিনি ‘হিন্দু–মুসলিম বিরোধের উৎস ও পটভূমি’ নিয়ে বক্তৃতা করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরে তিনি ধর্ম ভিত্তিক বিভক্তি মানতে না পেরে কলকাতায় থেকে যান। এসময়ে তিনি রচনা করেন ‘সমাজ ও সাহিত্য’, ‘কবিগুরু গ্যাটে’, ‘বাংলার জাগরণ’ প্রভৃতি মননশীল গ্রন্থ।
কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন ধর্মাশ্রয়ী কিন্তু যুক্তিবাদী, স্বাধীনচেতা, সংস্কারমুক্ত একজন বিদগ্ধ ব্যক্তি। ধর্মান্ধ রক্ষণশীল শক্তির আক্রমণ ও সমস্ত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তিনি ইসলামের প্রকৃত বাণীর আলোকে সাম্য ও মানবতার কল্যাণে দৃপ্ত পায়ে আপন জ্ঞান ও যুক্তির পথে চলেছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ঢাকা তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৪০ ও ৫০ এর দশকে গড়ে ওঠে বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলনের নতুন পর্ব। এই নবতর আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন তাঁরই সহযোগী কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল, পরবর্তীতে যুক্ত হন সরদার ফজলুল করিম, মুনির চৌধুরী, কবি শামসুর রহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সৈয়দ শামসুল হক, হাসান হাফিজ, আনিসুজ্জামান প্রমুখ সহ অসংখ্য কবি, লেখক ও বুদ্ধিজীবীর এক বিশাল প্রজন্ম যাঁরা ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ে এদেশে গড়ে তুলেন একটি শক্তিশালী প্রগতিশীল সাহিত্যিক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার আবহ ও সামাজিক পরিমণ্ডল। ১৯৭০ সালের ১৯ মে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।










