কর্মবিরতির চাপ কাটিয়ে রেকর্ড জাহাজ হ্যান্ডলিং

এক জোয়ারে ২৬ জাহাজের ইনবাউন্ড ও আওটবাউন্ড মুভমন্টে

হাসান আকবর | শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ছয় দিনের কর্মবিরতির চাপ কাটিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। রেকর্ডসংখ্যক জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর নজির স্থাপন করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালের এক জোয়ারে ২৬ জাহাজের মুভমেন্ট সম্পন্ন করে রেকর্ড স্থাপন করে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি। এর মধ্যে বন্দরের জেটিতে আটকা পড়া ১০টি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করেছে এবং বহির্নোঙরে জটে থাকা ১৬টি জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে বিভিন্ন জেটিতে বার্থিং নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বন্দরের ইতিহাসে এক জোয়ারে সর্বোচ্চ জাহাজের মুভমেন্ট। এর আগে ঠিক কবে এক জোয়ারে এত জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে, সে তথ্য নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেন না। তবে একই দিনে মাত্র সোয়া তিন ঘণ্টার জোয়ারের মধ্যে ২৬টি জাহাজের ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড মুভমেন্ট প্রথম বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, স্বাভাবিক সময়ে বন্দরে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়। ৫টি জাহাজ জেটি ত্যাগ করলে ৫টি জাহাজ ভিড়ে। কখনো কখনো এ সংখ্যা দুয়েকটি এদিকওদিক হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কসংকেত বাড়লে বন্দর থেকে সব জাহাজ বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সব জেটি খালি করে বন্দর থেকে সর্বোচ্চ ১৫/১৬টি জাহাজ বের করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জাহাজগুলোকে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু একই দিনের একই জোয়ারে জেটি থেকে ১০টি জাহাজকে বাইরে পাঠিয়ে বহির্নোঙর থেকে ১৬টি জাহাজকে জেটিতে নিয়ে আসার কোনো রেকর্ড নেই।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকালের জোয়ারে জেটি থেকে ১০টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠানো হয়। এসব জাহাজ বহির্নোঙর হয়ে বিশ্বের নানা গন্তব্যে চলে যাবে। জেটি থেকে সব জাহাজ বেরিয়ে যাওয়ার পর বেলা ১১টা ৩ মিনিটে এমটি সোয়ান প্যাসিফিক নামের গ্যাসভরতি জাহাজটি বন্দর চ্যানেল ধরে সিইউএফএল জেটিতে বার্থিং নেয়। এরপর একের পর এক জাহাজ আসতে থাকে বন্দরের জেটিতে। সর্বশেষ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জোয়ার শেষ হওয়ার আগে এমভি আমওয়াজ নামের জাহাজটি জেটির পথে যাত্রা করে। সব মিলিয়ে গতকাল সকালের জোয়ারে বন্দরে সব জেটিতে জাহাজ বার্থিং সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কেবলমাত্র সকালের জোয়ারে জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়। নাইট নেভিগেশন না থাকায় রাতের জোয়ারে বন্দরে কোনো জাহাজ আসাযাওয়া করে না। গতকাল জাহাজগুলো জেটিতে ভেড়ার পরপর প্রতিটি জাহাজে কাজ শুরু হয়েছে।

বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট জট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। গতকাল বন্দরের ইয়ার্ডে মোট ৩৬ হাজার ৭০৮ টিইইউএস কন্টেনার রয়েছে। এর মধ্যে ফুল কন্টেনার লোড (এফসিএল) রয়েছে ২৯ হাজার ৬৫১ টিইইউএস, ডিপোতে ১ হাজার ৩৪০ টিইইউএস, এলসিএল ১ হাজার ৩৮ টিইইউএস, আইসিডিমুখী ১ হাজার ৬৭৮ টিইইউএস, আইসিটিতে যাবে ১০৫ টিইইউএস, খালি কন্টেনার (এমটি) ২ হাজার ৭৮ টিইইউএস এবং রপ্তানি কন্টেনার রয়েছে ৮১৮ টিইইউএস। বন্দরের মোট ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউএস হওয়ায় বর্তমানে কন্টেনার অবস্থানকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর সূত্র জানায়, গতকাল ২ হাজার ২৪৭ টিইইউএস কন্টেনার ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। আজকের জন্য ২ হাজার ৮২৬ টিইইউএস ডেলিভারি নির্ধারিত রয়েছে।

বন্দরের কর্মকর্তারা বলেন, কর্মবিরতির চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে চট্টগ্রাম বন্দর। কর্মবিরতির কারণে যে জট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বন্দর সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়ে তারা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জট নিরসনের চেষ্টা চলছে।

আমদানিরপ্তানিকারক ও শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশের আমদানিরপ্তানি খাত সংকটে রয়েছে। কর্মবিরতির নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না গেলে এই সংকট তীব্র হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজিন্নাহর ঘোষণার পর আন্দোলন চাঙ্গা হয়
পরবর্তী নিবন্ধ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির ইশতেহার